শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদ ছাড়তে বাধ্য হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। তবে শুরুতেই পদে থাকার জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। যোগসাজশ গড়তে চেয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর সাথে। নানা আশ্বাস দিয়ে খুশি রাখতে চেয়েছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও। আর এসব করতে গিয়ে তিনি কোনো নিয়ম ও আইনের তোয়াক্কা করেননি।
গত ৬ মার্চ ৩৬টি পদের বিপরীতে ৪৯ জনের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা যায়, এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতেই নানা কৌশলে পদ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিয়ম না মেনেই বিভিন্ন কাজ হাসিলের পাঁয়তারা করেছিলেন উপাচার্য। কিন্তু তাদের এ অন্যায় কাজে সায় না দেওয়ায় চারজন কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন তিনি। নিয়ম ভেঙে রেজিস্ট্রারকে ট্রেজারারের গাড়ি ব্যবহারের অলিখিত অনুমোদন দিয়েছেন।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বিশেষ সিন্ডিকেট সভা ডাকেন তিনি; যা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল। তার শেষ সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার ও একজনকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেন। এখানেও মানেননি নিয়মকানুন।
নিয়মানুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিতে হলে ওই শিক্ষার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সুযোগ দিতে হয়। সেই নিয়ম অমান্য করে তিনি বিশেষ সিন্ডিকেটে বহিষ্কার আদেশ পাশ করিয়ে নেন। পরে এ শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণের বিষয়টি সামনে এনে আদালত গেলে বিপাকে পড়তে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, এটার একটা প্রক্রিয়া আছে, সেটা রেজিস্ট্রার অফিস জানে। এ শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেবে কিনা সেটাও তাদের জানার কথা। নিয়মের ক্ষেত্রে এখানে একটা ঘাটতি থাকতে পারে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সাথে দায়সারা কথা বলেন। তিনি বলেন, পদ্ধতিগত ভুল হলেও বহিষ্কৃত ওই দুই ছাত্রলীগকর্মীর অমানবিক নির্যাতনের সকল প্রমাণ তাদের কাছে আছে। যা উকিলের মাধ্যমে কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের নিয়ম মানা হয়নি কেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন নিয়ম মানা হয়েছে কিনা এটা হাইকোর্ট দেখবে।
কোনো ধরনের প্রক্রিয়া না মেনেই শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট ফ্রি করার কথা ঘোষণা দিয়ে বসেন। যদিও এটা গ্রেডশিট ফ্রি করার কথা ছিল। কারণ একজন শিক্ষার্থীর প্রতি সেমিস্টারে গ্রেডশিট প্রয়োজন আর ট্রান্সক্রিপ্ট একবার উঠালেই হয়। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কারো সাথেই আলোচনাও করেননি উপাচার্য।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে একটা ভুল হয়েছে। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে গ্রেডশিট ফ্রি করার কথা পরবর্তী উপাচার্যের সামনে তুলে ধরব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উপাচার্য সবার মন রক্ষা করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের কোনো তোয়াক্কা করতেন না। সবাইকে খুশি রাখতে চাইতেন। শেষ সময়ে পদ টিকিয়ে রাখতে আরো মরিয়া হয়ে উঠেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা যখন সিন্ডিকেট সভায় পাস হয় তখন আমি সিন্ডিকেটে ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে আমি জানি না। আর ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ফ্রি এর যে কথা বলা হয়েছে তা উপাচার্য তার শেষ সময়ে মৌখিকভাবে বলেছেন। এটা প্রক্রিয়াগত তিনি করেননি। যে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত উপাচার্য একা নিতে পারেন না। তাকে এই আর্থিক সিদ্ধান্ত বা কোনো আয়ের বা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত অর্থ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হয়। কিন্তু তিনি যে এটা করেছেন তা তার একক সিদ্ধান্ত।
১০ ঘণ্টার অপারেশনে আলাদা হলো যমজ শিশু রিফা-শিফা
সব কর্মচারীকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব দিতে হবে