ইতিহাসে প্রথম: শ্রীলঙ্কায় দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনা

  • ২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকট ও প্রেসিডেন্ট পলায়নের পর প্রথম নির্বাচন
  • ভোটে এগিয়ে আছেন এনপিপি দলের অনুড়া কুমারা দিসানায়েকে
  • শ্রৗলঙ্কায় ১ কোটি ৭০ লাখের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম

শ্রীলঙ্কার চলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের কেউই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি। ফলে ১৯৮১ সালের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফা ভোট গণনা চলছে। 

বিবিসির খবরে বলা হয়, নির্বাচনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের প্রার্থীকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ভোট গণনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আর এল এ এম রত্নায়েকে। তিনি জানান, দুই শীর্ষ প্রতিযোগী এনপিপি দলের অনুড়া কুমারা দিসানায়েকে ও বিরোধী দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা ছাড়া বাকিরা প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াই থেকে বাদ পড়েছেন।

বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'ওই দুই প্রার্থীকে দ্বিতীয় পছন্দের প্রার্থী হিসেবে যারা ভোট দিয়েছিলেন সেগুলো এখন গণনা করা হবে।'

শ্রীলঙ্কার সরকারি পোর্টাল নিউজ ডট এলকে জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যালট পেপারে মোট ৩৫ প্রার্থীর নাম আছে। তাদের নামের পাশে এক, দুই ও তিন লিখে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেন।'

২০২২ সালে দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও প্রেসিডেন্ট পলায়নের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটিতে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য–উপাত্ত অনুযায়ী, রবিবার সকাল পর্যন্ত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে ভোট গণনায় বড় সংগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আছেন দিসানায়েকে। গণনাকৃত ভোটের প্রায় ৪২.৩১ শতাংশ জিতেছেন তিনি। দেশটিতে একজন প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে মোট ভোটের ৫১ শতাংশ প্রয়োজন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় দিসানায়েকে দুর্নীতি বিরোধী কঠোর ব্যবস্থা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যা দেশটির জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আশার সঞ্চার করেছে।

বিবিসি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী শ্রীলঙ্কার বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়াগার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা মোট ভোটের প্রায় ৩২.৭৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। 

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটির বৈধ ১৭ মিলিয়ন (১ কোটি ৭০ লাখ) ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ গতকালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ৮৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অর্ধেকের বেশি ভোট না পান, তবে অগ্রাধিকার ভোটের ওপর নির্ভর করে বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। তবে দেশটির ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ভোট গণনার মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় গতকাল দিবাগত রাতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ আট ঘণ্টার জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। ‘জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা’ করে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত