দেরিতে হলেও সত্যিটা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্ট ক্রিকেটে রান করার কাজটা ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের, ছয়-সাত-আট নম্বরের নয় এই সত্যিটা হয়তো এড়িয়ে গেছেন, নিজেও রান পাচ্ছিলেন না বলে। চেন্নাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রান করে লম্বা সময় পর ৫০ পার করা শান্ত এখন তাই বলতেই পারেন যে, টপ অর্ডারকে রান করতেই হবে।
পাকিস্তান সফরে ২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৪৪৮ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নামার পর ২০০ রানের আগেই ৪ উইকেট চলে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ ৫৫০-এর বেশি রান তুলেছে লোয়ার অর্ডারের জোরে। চেন্নাই টেস্টেও ১৪৪ রানে ৬ উইকেট চলে যাওয়ার পর ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দ্রন অশ্বিন সপ্তম উইকেটে ১৯৯ রান যোগ করেছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে লেজের জোরে বাঁচলেও এবারে আর বাঁচা যায়নি, কারণ এভাবে বারবার বাঁচা যায় না। তাই তো শান্ত ২৮০ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘এই ম্যাচ থেকে পাওয়া শিক্ষা হচ্ছে, টপ অর্ডারকে রান করতে হবে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে আমাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। আমাদের আরেকটু রান করা উচিত ছিল। আশা করছি পরের টেস্টে ব্যাটসম্যানরা ভালো করবে।’ ব্যাটিংটা কেন ভালো হচ্ছে না এমন প্রশ্নে শান্তর উত্তর, ‘উইকেটে সময় কাটানোটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যথেষ্ট সময় কাটাতে পারিনি (উইকেটে) তবুও সেটা যথেষ্ট ছিল না। আমাদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৬২ রানের জুটি গড়েছিল। পরের টেস্টের জন্য এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক।’
সকালের প্রথম ঘণ্টাটা কাটিয়ে দিয়েছিলেন শান্ত আর সাকিব আল হাসান মিলে। দলীয় ১৯৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন সাকিব, এরপর আর ৪০ রান যোগ হতেই অলআউট বাংলাদেশ। কারণ হিসেবে শান্তর ব্যাখ্যা, ‘আজকে সকালের সেশনে ভারত খুব ভালো বোলিং করেছে। সিরাজ যখন বল করছিলেন বিশেষ করে, ওই সময়টা খুব কঠিন ছিল। সকালের এক ঘণ্টা আমরা ভালো ব্যাট করেছি, এরপর আমরা আর ভালো করিনি। এর একটা কারণ হতে পারে, ওরা রাফে (উইকেটের বিক্ষত অংশে) অনেক বেশি বল ফেলছিল। আমি এটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাই না। এসব চ্যালেঞ্জ আমাদের সামলাতেই হবে।’
টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প নিজেই খানিকটা বিভ্রান্ত। অধিনায়ক শান্তও খুঁজছেন উত্তর, টপ অর্ডারের জন্য ভালো করাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে। দেখতে হবে ওরা কী করে মানিয়ে নেয়। আমরা এই নিয়ে অনেক কাজ করছি কিন্তু কাক্সিক্ষত সাফল্য পাচ্ছি না।’
ভারতের শুবমান গিল প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও পরের ইনিংসে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু সাদমান ইসলাম বা জাকির হাসানরা মধ্য ত্রিশের বেশি যেতে পারেন না। শান্ত সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও যখন দেখেছেন অন্যপ্রান্তে লিটন বা মিরাজ কেউ নেই, তখন চালিয়ে খেলতে গিয়েই আউট হয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে রান করাটা যে ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের প্রধান কাজ, সেই সত্যিটা ভুলিয়ে দিয়েছিল রাওয়ালপিন্ডির জয়। চেন্নাইতে বড় হার সেই সত্যিটাই ফের মনে করিয়ে দিল শান্তদের।
