বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া লালমনিরহাটের নয়ন ইসলামের (২৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার জানাজা শেষে আদিতমারীর দক্ষিণ গোবধা গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
এর আগে গত শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ আগস্ট রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শুক্রবার রাতে মারা যান তিনি।
নয়ন রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতেন। তাকে আদিতমারী উপজেলা যুবদলের দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৪০ নম্বর সদস্য বলে দাবি করেছেন আদিতমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এ কে এম হাসানুল হক বান্না।
নয়নের জানাজায় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম কামালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
২৬ বছর বয়সী নয়ন ইসলাম। গ্রামে কখনো কৃষি শ্রমিকের কাজ করেছেন, কখনো বা করেছেন বাসের হেলপারি। আবার রিকশাও চালিয়েছেন। সর্বশেষ কাজ করছিলেন রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে। এ অবস্থায় গত ৪ আগস্ট রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর ওইদিনই তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রায় দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নয়নের মৃত্যুর খবরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। কান্না ছড়িয়েছে স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরাসহ অনেকে। নয়ন মিয়াকে দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বলে দাবি করেছে যুবদল।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবধা (সত্য মঙ্গলের কোর্ট) গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে নয়ন ইসলাম। মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন বছর দেড়েক আগে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করায় স্ত্রীকে নিয়ে একই গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান নয়ন। সেখানে স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী মেয়েকে রেখে ঢাকায় কাজ করতেন তিনি। অন্য ধর্ম গ্রহণ করায় মা-বাবার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।
ইউপি সদস্য আমিনুল হক জানান, নয়ন এক সময় তাদের গরুর খামারে কাজ করতেন। এই অবস্থায় তার (আমিনুল) ভাই এরশাদুল হকের মেয়ে রিপা আক্তারের সঙ্গে প্রায় চার আগে বিয়ে হয় নয়নের। ৪ আগস্ট মিছিলে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।
