বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের দেখতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিদর্শন করেছে চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। এ সময় তারা রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসায় বাংলাদেশ থেকে আহতদের চীন নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান টিমের সদস্যরা।
গতকাল সোমবার এই দুই হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চীনা দল ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় দলের সঙ্গে থাকা চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা আহতদের দেখতে এসেছেন। তারা কীভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা কেমন, তা দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের কী ধরনের উন্নতি হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে।
চীনা চিকিৎসক দল প্রথমে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান। সেখানে আন্দোলনে আহত রোগীদের দেখেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, চীনা দলের চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন এবং আমরা যে চিকিৎসাগুলো করেছি, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। আমাদের চিকিৎসা কতটুকু সঠিক ছিল এবং আরও কোনো ধরনের সহযোগিতা লাগবে কি নাএ বিষয়ে তাদের মন্তব্য হলো, এখানে যে সার্জারিগুলো হয়েছে, সেগুলো ‘এক্সিলেন্ট’ এবং এসব চীনে থাকলেও সেখানকার রোগীদের জন্য তারা একই পদ্ধতিতে কাজ করতেন।
এই পরিচালক আরও বলেন, তারা দুটি উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলেন এখান থেকে কোনো রোগী নেওয়ার প্রয়োজন হলে তারা চীনে নিয়ে যাবেন, অথবা কোনো বিশেষজ্ঞ টিমের প্রয়োজন হলে পাঠাবেন। তারা এটাও দেখবেন যে, চিকিৎসা পদ্ধতিতে আর কোনো টেকনোলজি প্রয়োগ করা যায় কি না। তারা বলেছেন, আমাদের এখানে যারা চিকিৎসা করেছেন, তাদের পারফরমেন্স এক্সিলেন্ট। এখন তারা এখান থেকে কোনো রোগী চীনে নেবেন কি না বা কোনো বিশেষজ্ঞ দল আসবে কি না, সেটা তারা তাদের এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবে।
এই কর্মকর্তা জানান, গতকাল চীনা দলের চিকিৎসকরা ২৯ রোগীকে দেখেছেন। তারা এই হাসপাতালে আর কোনো রোগী দেখবেন না। অন্য হাসপাতালগুলোয় যাবেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে আহতদের ৪২ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, চীনা বিশেষজ্ঞ দল রোগীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও উন্নতির বিষয়গুলো দেখেছে। তারা চক্ষু হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধাও দেখেছে। সম্ভব হলে তারা এখানকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করবে। আর যদি প্রয়োজন হয় তারা রোগীদের চীন নিয়ে যাবে।
পরে চীনা চিকিৎসক দল জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিদর্শন করে। সেখানেও দলের সদস্য চিকিৎসকরা রোগীদের দেখেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
এ ব্যাপারে ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান দেশ রূপান্তরকে জানান, এই হাসপাতালে চীনা চিকিৎসক দলের সদস্যরা ৪০ রোগী দেখেছেন। তারা এখানে যে চিকিৎসা হয়েছে, সেটার সঙ্গে একমত হয়েছেন। অর্থাৎ চিকিৎসা সঠিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এই চীনা দল আগামী ২৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সবগুলো হাসপাতালে ঘুরে তাদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবেন।
