লক্ষ্য জয় স্বপ্ন সেমিফাইনাল

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:৩৪ এএম

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলে ২০১৪ সালে। সেটা ঘরের মাঠে, সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সবগুলো ম্যাচ। সেবার শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশের নারীরা। তারপর আরও চারটি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু কোনো ম্যাচে জয় তো দূরে থাক, ন্যূনতম সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে খরা প্রকট হয়েছে, ক্ষুধা তীব্র হয়েছে। এবার তা মেটানোর পালা।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল। তাই সম্ভাবনাও ছিল এবার ভালো কিছু করার। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরে গেছে টুর্নামেন্টটি। স্বাভাবিক বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কৌশলেও আনতে হচ্ছে পরিবর্তন। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জিতে এসেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের মোড়কে থাকা জাতীয় দল। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি প্রত্যয়ী কণ্ঠে বললেন, তাদের প্রথম লক্ষ্য জয়। সেটি পূরণ হয়ে গেল স্বপ্নের সীমানায় আছে সেমিফাইনালও।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচ আসর খেলে ২১ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় কেবল দুটি। ২০১৪ আসরে ওই দুটি জয়ের পর সবশেষ টানা ১৬ ম্যাচে আর ধরা দেয়নি জয়। সেই দলের জাহানারা আলম ও ফাহিমা খাতুন ছাড়া আর কেউ নেই এবারের দলে। দলের সেরা ব্যাটার ও অধিনায়ক জ্যোতি এখন জাতীয় দলের বড় বিজ্ঞাপন, কিন্তু তিনিই এখনো পাননি জয়ের স্বাদ। সেই অপূর্ণতা এবার ঘোচাতে চান তিনি।

বিশ্বকাপের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই জোর হাওয়া লেগেছে। কারণ বাংলাদেশের গ্রুপে যে স্কটল্যান্ড আছে। ১০ দলের বিশ্বকাপে একমাত্র সহযোগী দেশ তারাই। স্কটিশ মেয়েদের সঙ্গে চারটি ম্যাচ খেলে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। তবে তাদের প্রতি অবশ্য সমীহ আছে জ্যোতির। তবে জয়ের জোর বিশ্বাসও পাচ্ছেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে আজ সকাল ১০টায় ঢাকা ছাড়বেন জ্যোতিরা। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের মূল লড়াই শুরু আগামী ৩ অক্টোবর। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জ্যোতি বলেন, ‘প্রথমত ম্যাচ জিততে চেষ্টা করব। ২০১৪ ছাড়া একটা বিশ্বকাপেও আমরা একটি ম্যাচও জিততে পারিনি। ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে ভালো ক্রিকেট খেলার কোনো মানে নেই, যদি আপনি ম্যাচ জিততে না পারেন। প্রথমত চাই ম্যাচ জিততে। দ্বিতীয়ত যখন আমরা ফ্লো পাব, আমার কাছে মনে হয় আমাদের যে দল... অবশ্যই... সেমিফাইনাল কে না খেলতে চায়।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য

থাকবে সেভাবেই। আমরা জানি যে আমাদের ক্রিকেটটা যদি এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে বিশ্বকাপের চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না। ওখানে ভালো পারফরম্যান্স করলে শুধু আমরা না, যারা বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলে, বাকি যে মেয়েরা... যারা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে চায় তাদের জন্য আমরা ভালো কিছু করতে চাই।’

এদিকে নারী টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন জ্যোতি। সবকিছু ঠিক থাকলে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই তার শততম ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচটি নিয়ে তাই বাড়তি রোমাঞ্চ কাজ করছে জ্যোতির মধ্যে।

জ্যোতি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ স্পেশাল... তো প্রথম ম্যাচ জিততে চাই। আমার জন্য এটা সব থেকে স্পেশাল। আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য এটা অনেক বড় একটা অর্জন হবে। অবশ্যই... একজন প্লেয়ার হিসেবে একশতম ম্যাচ, আমি এখনো জানি না খেলতে পারব কি না। যদি আল্লাহপাক সুস্থ রাখেন তাহলে তো অবশ্যই খেলব। যদি খেলি, প্রথম লক্ষ্য এটাই থাকবে যেন জিততে পারি।’

বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের তিনটিই খেলবে শারজাহতে। স্কটল্যান্ডের পর এই মাঠেই ৫ অক্টোবর খেলা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ও ১০ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। দুবাইয়ে ১২ অক্টোবর লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। এই দুই ভেন্যুতে আগে কখনোই খেলেননি তারা। এবার বিশ্বকাপের আগে অবশ্য দুবাইয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। আগামী শনিবার শ্রীলঙ্কা ও সোমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ের দুটি ম্যাচ খেলবেন তারা।

এই ম্যাচ দুটি থেকে উইকেট নিয়ে ধারণা নিতে চান জ্যোতি, ‘২০২২ সালে আমরা খেলেছি আবুধাবিতে। সেখানে উইকেট অনেক সুন্দর ছিল। এবার শারজাহ আমাদের জন্য পুরো নতুন ভেন্যু। তবে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আমরা খেলব, সেখান থেকে কম-বেশি কিছু ধারণা পাব। শুধু আমাদেরই যে সমস্যা হবে, তা কিন্তু হয়। প্রতিটি দলেরই একই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব, তত আমাদের জন্য সুবিধা হবে বড় মঞ্চে মূল ম্যাচগুলো খেলার জন্য।’

এবার নিগারকে ভরসা জোগাচ্ছে আরব আমিরাতের কন্ডিশন ও উইকেট, ‘সেমিফাইনালে যেতে হলে কিন্তু শুধু স্কটল্যান্ড নয়, বাকি তিনটা ম্যাচ থেকেও জিততে হবে। প্রতিটি দলের বিপক্ষে ভিন্ন পরিকল্পনা তো অবশ্যই থাকবে। প্রতিটি ম্যাচের আগে যদি ওই দলের প্রতি বেশি মনোযোগ দিই এবং যদি আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, আমাদের জন্য ভালো হবে।’

জ্যোতি যোগ করেন, ‘আমরা কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এসেছি টি-টোয়েন্টিতে। তাই তাদের বিপক্ষে আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা আছে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের বরাবরই শুধু বিশ্বকাপে দেখা হয় এবং খুবই কম খেলা হয়। নতুন প্রতিপক্ষ, ওদের জন্যও কিন্তু কঠিন হতে পারে। শারজাহতে খেলা, আমাদের স্পিন ভালো। কে জানে (কিছু হতেও পারে)!’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত