ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের কেন ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করা হবে না, আন্দোলনে আহত ও গ্রেপ্তারদের কেন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী নাজির শাহীনের পক্ষে রিট আবেদনটি করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. রায়হান আলম।
অ্যাডভোকেট রায়হান আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাদের জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে একটা ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ পেয়েছি, যে মানুষগুলোর ত্যাগের ওপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবন ও ত্যাগের কোনো প্রতিদান হয় না। তারপরেও তাদের সম্মান জানাতে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করা জরুরি। তেমনি আন্দোলনকে সফল করতে গিয়ে যারা আহত, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে
স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আদালত এ বিষয়ে রুল দিয়েছে।’
আন্দোলনে আহত ও গ্রেপ্তারদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো মাসিক ভাতা কেন দেওয়া হবে না, এ মর্মেও রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে এখন অবকাশ চলছে। আমরা মনে করি রিট মামলাটি একটি জাতীয় জরুরি বিষয়। তাই অবকাশের পরেই রুলের ওপর দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
