জম্মু-কাশ্মীরে হেভিওয়েটদের লড়াই

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২৫ এএম

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ছয়টি জেলার ২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ১৫টিই কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী অধ্যুষিত এলাকা। এ আসনগুলোয় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। এই ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়েছেন ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে নিযুক্ত কূটনীতিকদের ভোট দেখাতে কাশ্মীর উপত্যকায় নিয়ে যান। ভোটের আগে উপত্যকাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি চিফ অব মিশন জরগান অ্যান্ড্রুর নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, পানামা, নরওয়ে, গায়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, তানজানিয়া, আলজেরিয়া, রুয়ান্ডার কূটনীতিকরা বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পর্যবেক্ষণ শেষে গতকালই আবার নয়াদিল্লি ফিরে আসেন এসব কূটনীতিক।

দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র রায়না, কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কাররা, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি। এবারের নির্বাচনে গান্দারবাল ও বাদগাম  দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওমর আবদুল্লাহ। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পিডিপির নেতা বসির আহমেদ। তবে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের হার কিছুটা কমেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জম্মুর দুই জেলা রিয়াসি এবং পুঞ্চে সবচেয়ে বেশি ভোটগ্রহণ হয়েছে। রিয়াসিতে ৬৪ শতাংশ এবং পুঞ্চে ৬২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোট প্রদানের হার সবচেয়ে কম শ্রীনগরে। কাশ্মীরের এই আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ২২ শতাংশের কিছু বেশি।

এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক দশক পর ভারতের কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হয়। ২০১৪ সালে অঞ্চলটিতে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এর পর থেকে পাল্টে যায় জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরকে দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে বিশেষ মর্যাদা হারানোর পাশাপাশি রাজ্যের তকমাও হারিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ধারাটি বাতিলের মাধ্যমে রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। ফলে এবার পূর্ণ রাজ্য হিসেবে নয়, কেন্দ্রশাসিত একটি অঞ্চল হিসেবে ভোটগ্রহণ হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত