বৃষ্টি বাধা হবে না গ্রিন পার্কে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৬ এএম

গঙ্গার ধারের গ্রিন পার্ক স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতের আমলে। লেডি গ্রিন নামের এক ব্রিটিশ মহিলা এই জায়গায় ঘোড়সওয়ারি করতে আসবেন, সেই থেকে গ্রিন পার্ক। কাছের শহর বেনারস থেকে উঠে আসা ভারতীয় পেসার আকাশদীপ সিংও বললেন যে তার কাছে ছোটবেলা থেকেই গ্রিন পার্কের নাম শুনে মনে হয়েছে জায়গাটা বুঝি সবুজে ঘেরা! আসলে একদমই তা নয়, বরং আশপাশটা বিবর্ণ। পুরনো ভাঙা বাড়িঘর, ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত দালান এ সবের মধ্যেই সিভিল লাইনসের গ্রিন পার্ক স্টেডিয়াম, যেখানে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। বছর চারেক পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে এই গ্রিন পার্কে।

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবার পর বাংলাদেশকে নিয়ে বাড়তি একটা সমীহ দেখাচ্ছিল ভারতীয় গণমাধ্যম। চেন্নাইতে তিনদিনের একটু বেশি সময় খেলে ২৮০ রানে হারের পর ওসব আপাতত নেই। বরং কানপুরে হিন্দু মহাসভা আর প্রকৃতি কী করে এই নিয়েই আশঙ্কা, দুই তরফেই খেলা প- করার হুমকি আছে। চেন্নাইতে গরম প্রচ- হলেও প্রেসবক্স ছিল তাপানুকূল, এখানকার প্রেসবক্স উন্মুক্ত। সারাক্ষণই তাই ঘামছে শরীর। তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি থেকে ২৯ ডিগ্রি হলেও উচ্চ আর্দ্রতার জন্য গরম বেশি লাগছে। দিল্লি থেকে আসা এক সাংবাদিক বললেন, ওখানেও এ রকম আবহাওয়া। দিনে প্রচ- গরম আর দুপুরে প্রবল বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে বৃষ্টি হবে। তবে কানপুরের গ্রিন পার্কের কিউরেটর ড. সঞ্জয় কাপুর আশ্বস্ত করেছেন, মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম খুবই ভালো। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকলেও বৃষ্টি থামলে দ্রুত মাঠ শুকিয়ে যাবে, ‘আমি বৃষ্টি নিয়ে কিছু বলতে পারছি না, আমার মনে হয় হয়তো সাময়িক এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। আমরা মাঠে বৃষ্টির জন্য প্রস্তুতি রেখেছি। আমাদের পুরো মাঠ ঢেকে ফেলার সক্ষমতা আছে, এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেমও খুব ভালো, আমাদের সুপার সপার আছে, গ্রাউন্ডসম্যানদের দক্ষতা ও যন্ত্রপাতি সবকিছুর সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুত মাঠে অতিথিদের স্বাগত জানাতে।’

এই মাঠে সবশেষ দুটো টেস্টেই ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। সবশেষ টেস্টটি রোমাঞ্চকর ড্র হয়েছে, ১ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল কিউইরা। তার আগেরটিতে ভারত জিতেছে। কোনো ইনিংসেই দলীয় রান ৪০০ ছাড়ায়নি সবশেষ ৮ ইনিংসে। উইকেট কেমন আচরণ করতে পারে এমন প্রশ্নে সঞ্জয় বলেছেন, ‘এখানকার উইকেট ভালো উইকেট। যে দল ভালো খেলবে, নিজেদের সামর্থ্যরে প্রতি সুবিচার করবে, তারা ভালো করবে। এই উইকেট ভালো বোলিং ট্র্যাকও। কোনো দল যদি সবদিক দিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলে তাহলে তাদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।’

প্রকৃতির বাধা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কোনো বিঘ্ন যেন না ঘটে সেদিকেও সচেষ্ট উত্তর প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, জানালেন সঞ্জয়, ‘আমি সব অতিথিকে আমাদের মাঠে স্বাগত জানাচ্ছি। এই ভেন্যু নববধূর মতো সেজে আছে, দর্শকদের অপেক্ষায়। আমাদের শহরের পুলিশ কমিশনার দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ম্যাচটা নিরাপদে নির্বিঘেœ সম্পন্ন করার জন্য। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভালো একটা ম্যাচ হবে, ব্যাট-বলের লড়াই হবে। আপনারা আসবেন।’

বছর চারেক পর কানপুরে টেস্ট হচ্ছে। সেই দর্শকদের এই আনন্দ উপভোগে প্রকৃতি বা মানুষ, কেউই যেন বাধা না হয় সেজন্য সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত