অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ ভারী যান চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১২ এএম

নেত্রকোনার বারহাট্টার সাহতা ধনাই নদীর ওপর নির্মিত অপরিকল্পিত সেতু মাত্র ৯ বছরেই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের। সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় বর্ষায় পানির উচ্চতা বাড়লে প্রায় বন্ধের উপক্রম হয় নৌ-চলাচল। গত বছর বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর গার্ডারসহ চারটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারী যান চলাচল। তবে নির্মাণের সময় উচ্চতা নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও গুরুত্ব দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা।

নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার সাহতা বাজার ও গোপালপুরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ধনাই নদী। এ নদীর ওপর ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালে। এনটিটিএমএআর (জেবি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। ২০১৪ সালে নির্মাণকাজ শেষে যান চলাচল শুরু হয়। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুটির চারটি পিলারসহ গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কর্তৃপক্ষ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। সেতুর ওপরে ভারী যান চলাচল বন্ধে কয়েকটি জায়গায় ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়।

সাহতা গ্রামের এখলাছ মিয়া বলেন, অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বালুর নৌকার ধাক্কায় সেতুর পিলার ভেঙে গেছে। এ কারণে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিয়মিত। বারহাট্টা থেকে মালপত্র আনতে আরও ১০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়।

বালু নিতে আসা বাল্কহেডের চালক সাগর, রবি, অলি ও শাহ আলম বলেন, সেতু নিচু হওয়ার কারণে আনলোড বাল্কহেড নেওয়া যায় না। মেশিন দিয়ে পানিবোঝাই করে তারপর যেতে হয়। অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণের বিষয়টি এড়িয়ে নেত্রকোনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আগে নদী শাসনব্যবস্থা আইনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেতু নির্মাণে নির্ধারিত কোনো উচ্চতা ছিল না। এখন সর্বনিম্ন উচ্চতা নির্ধারণ করা আছে। তখনকার সময় হয়তো উচ্চতা ঠিক ছিল। ভারী যান চলাচল বন্ধ আছে। সাহতা ব্রিজকে বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে ব্রিজ মেইনটেন্যান্স প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সেতু নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত