ছিনতাইকারী সন্দেহেই শাহাদাত হোসেনকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের খুঁটির সঙ্গে দুই হাত ও পা বেঁধে মারধর করা হয়েছিল। গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কিছু সময় ধরে গান গেয়ে দফায় দফায় তাকে পেটানো হয়। মৃত্যুর পর শাহাদাতের লাশ ফেলে রাখা হয় বদনা শাহ মাজারের বিপরীতে সড়কের ফুটপাতে। ‘চট্টগ্রাম ছাত্র-জনতা ট্রাফিক গ্রুপ’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যরা এ হত্যাকা- ঘটায়। নিহত শাহাদাতের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
এই হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই গ্রুপের অ্যাডমিন ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েলসহ (৪২) তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে নগর পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে নগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো আনিসুর রহমান ইফাত (১৯) ও অন্যজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর।
পুলিশ কর্মকর্তা কাজী তারেক আজিজ জানান, ছাত্র পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হলেও বস্তুত এই গ্রুপে ছাত্র নেই। গ্রেপ্তার হওয়া ওই গ্রুপের অ্যাডমিন ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েলের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তিনি ইট-বালুর ব্যবসা করেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া আনিসুর রহমান ইফাত নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। নিহত শাহাদাতের সঙ্গে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যদের আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না। নিছক ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাতকে পিটিয়ে মারা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যান এলাকা থেকে ‘চট্টগ্রাম ছাত্র-জনতা ট্রাফিক গ্রুপ’-এর অ্যাডমিন ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আনিসুর রহমান ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা কাজী তারেক আরও জানান, শাহাদাত হত্যায় শুধু গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন নয়, আরও ১৮-২০ জন জড়িত। তাকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে পেটানো হচ্ছিল।
