চাঁদা না দিলেই হামলা চালানো হয় বাড়িঘরে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৪ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা, লুটপাট ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ বাহিনীর সদস্যদের দাবি করা চাঁদা না দিলেই হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা না পেয়ে ঘরবাড়ি রেখে গ্রামের অনেক বাসিন্দা পালাতে শুরু করেছেন। এ বিষয়ে হরিরামপুর থানায় গত ৪ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান, মান্নান জমাদ্দার, কাদের শিকদার ও সাহেব আলী আলাদা চারটি অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা ও তার বাহিনীর সদস্যরা অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের বসন্তপুর, জালালদি ও এনায়েতপুর গ্রামের মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও লুটপাট চালায়। আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শামসুদ্দিন, জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন, ‘গত ৬ আগস্ট আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে সাবেক মেম্বার শামসুদ্দিনসহ ১০-১৫ জন আমার বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।’

আজিমনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মান্নান জমাদ্দার বলেন, ‘বিএনপি নেতা হান্নান মৃধার নেতৃত্বে একদল লোক এসে আমার বাড়িও ভাঙচুর করেছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেম্বার শামসুদ্দিন, জাহাঙ্গীর ও মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযোগকারীদের বাড়িতে কিছু পোলাপান হামলা করেছে। এর সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, এসব মিথ্যা।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, ‘বিষয়গুলো আমার জানা ছিল না। যদি এরকম চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, তাহলে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, ‘উভয়পক্ষের অনেকগুলো অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত