মনিরামপুরে অর্ধশত বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৫ এএম

ভবদহ স্লুইচগেটের স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েই চলেছে। শংকা ও ঝুঁকি নিয়ে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে গেলেও চরম উদ্বিগ্নতায় থাকছেন অভিভাবকরা। পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সতেরটি ইউনিয়নের মধ্যে ভবদহের জলাবদ্ধতা গ্রাস করে রেখেছে কুলটিয়া, নেহালপুর, মনোহরপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও হরিহরনগর ইউনিয়ন। এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পানি। এ পানি মাড়িয়ে ভিজে স্কুলে-কলেজে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতা রানী ঘোষ বলেন, ‘অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন ক্রমান্বয়ে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্কুলে উপস্থিতি খুবই কম। আমাদের স্কুলের রাস্তা খুবই নিচু হওয়ায় সেখানে কোমর সমান পানি। যাতায়াতে খুবই সমস্যা। তাই আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সমস্যার সমাধানকল্পে আবেদন দিয়েছি।’

এসব বিষয়ে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু মোত্তালেব আলম বলেন, ‘এখন অনুষ্ঠানে আছি। কিছু বলতে পারব না।’ তবে পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তার ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। মাধ্যমিক উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেন বলেন, ‘কুলটিয়া, নেহালপুর, মনোহরপুর ইউনিয়নে স্কুল-কলেজ পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিবেশ অনুকূল হলে শিক্ষার ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে।’

জলাবদ্ধতা মোকাবিলা এবং পানি নিষ্কাশনে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পদক্ষেপ কী এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরামপুর উপজেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঠিক করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত