উজানের ঢল ও দুদিনের টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ইতোমধ্যে পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৭ মিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরবর্তীতে সকাল ৯টায় পানি কমে তা ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে জেলার তিস্তার তীরবর্তী ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২৫/৩০ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। চরাঞ্চলগুলোর ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি উঠে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসকল গ্রামের মানুষ। এসব এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উঠতি আমন ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ডুবে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে বেশ কিছু পুকুরে মাছ।
এদিকে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতভর সলেডি স্প্যার বাঁধ-২ এর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এ কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলে থাকা শত শত পরিবার। স্থানীয়রা রাত জেগে বাঁধে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।
বারঘরিয়া গ্রামের জোবায়দুল ইসলাম বলেন, গত দুই রাতে তিস্তার পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। এখন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাব তার কোনো উপায় নাই। এখন কলার ভেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।
আমিনুর ইসলাম বলেন, এলাকার প্রতিটি বাড়িতে এখন হাঁটু পানি।শিশু ও গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি।
মহিষখোচা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, মহিষখোচা ইউনিয়নের ৬/৭হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাঁধ রক্ষায় সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে সেটি রক্ষার চেষ্টা করেছি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার বলেন, রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় একটু কমে পরে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, বন্যা মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন সর্তক অবস্থায় আছে। বন্যায় যাতে করে বাঁধ ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত না হয় সেটা নজরদারী করে ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
