তারেকের মুনশিয়ানায় নতুন স্বপ্নে বিএনপি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৭ এএম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে বিগত দিনগুলোতে দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন তারেক রহমান। নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে। কিন্তু খুন, গুম, হামলা, মামলা, নির্যাতনের মুখে সফলতা না পেলেও শেষ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কৌশলে সম্পৃক্ত করে তারেক রহমানই আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিশীলিত বক্তব্যে যেসব শব্দচয়ন তাতে সাধারণ মানুষ নতুন তারেক রহমানকে দেখতে পাচ্ছেন। কথাবার্তায় সংযত তারেক রহমান শুধু ক্ষমতার পালাবদল দেখতে চান না, ব্যক্তির মধ্যে ক্ষমতার হাতবদল চান না। দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো নেই তার। দেশের জনগণের যে প্রত্যাশা তার সঙ্গে সংগতি রেখে রাষ্ট্র ও রাজনীতির যেন পরিবর্তন হয় সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। দলের নেতাদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করে জনগণের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা জানার জন্য। সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনীতি, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান তারেক রহমান। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণেও দিচ্ছেন বিচক্ষণতার পরিচয়।

বিএনপি নেতারা আরও বলেন, ‘জনগণ শুধু ক্ষমতার পালাবদল চায় না। তারা চান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে তাদের দলের নেতারা যেভাবে দুর্নীতি, অনাচার করেছেন, তেমনটি যাতে বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন তারেক রহমান। আর তার অংশ হিসেবে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের শোকজ, বহিষ্কার করা হচ্ছে। কোনো নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর নিজ দলের উদ্যোগে তার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছর ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি মহাসমাবেশ প- করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন করে নির্বিঘ্নে নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ সরকার। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সফলতা আনার পেছনে ভূমিকা রাখেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনীতিতে নিজের মুনশিয়ানার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার এ মুনশিয়ানা আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় নেবে। ক্ষমতায় গিয়ে জনগণ যে পরিবর্তন চায়, সে পরিবর্তন আনা হবে। দলটির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে এমনটা জানিয়ে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পৃথক ব্যানারে রাজপথে নামার পরামর্শ এসেছিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু বিএনপিসহ তৎকালীন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পৃথকভাবে রাজপথে নামলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে বিতর্কিত করে সরকার দমনপীড়ন চালিয়ে তা ভেস্তে দিতে পারে, এমন দৃঢ় ধারণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। বরং ছাত্রদের সামনে রেখে তাদের নেপথ্যে সমর্থন ও সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতেই শেষ পর্যন্ত সফলতা আসে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কেউ কেউ বিএনপিকে আলাদা ব্যানার নিয়ে রাজপথে নামার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বুঝতে পেরেছিলেন বিএনপি আলাদাভাবে রাজপথে নামলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সরকার ডাইভার্ট করে (অন্যদিকে চালিত করে) বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন আখ্যা দিয়ে পুরো আন্দোলনই ভেস্তে দেবে। এ কারণে তারেক রহমান বিএনপিসহ তৎকালীন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আলাদা ব্যানারে রাজপথে না নামিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, আন্দোলনে জানমালের যাতে কম ক্ষয়ক্ষতি হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে ছাত্ররা রক্ষা পায়নি। হাজারের ওপর ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। অনেকে পঙ্গু হয়েছেন, কেউবা চোখ হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কৌশলে নিজের দল বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার পর গত ৫ আগস্ট সরকারের পতন হয়। সরকারের পতনের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেমে থাকেননি। আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শুধু এখন নয়, আগামীতে বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে পারলে এসব পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। দলের নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম করে নিহত, আহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠাচ্ছেন।’

আন্দোলনে তারেক রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গণ অধিকার পরিষদের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন তারেক রহমান। বিশেষ করে সারজিস আলমসহ অন্য ছয় সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে রাখার সময় এবং তাদের দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে জোরপূর্বক বিবৃতি দেওয়ার সময় বাইরে থাকা সমন্বয়কদের দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ানো হয়।’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অন্যায়ে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তথ্য পওয়ামাত্র তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজপথে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন না। ছিলেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এখন সরকার পতনের পর যেসব নেতা কিংবা তাদের অনুসারী দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত, তারেক রহমান তাদের ছাড় দিচ্ছেন না, দেবেন না। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীনসহ সারা দেশে একাধিক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সারা দেশ থেকে এরকম নানা অভিযোগ আসছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের কাছে দলের স্বচ্ছ ইমেজ তুলে ধরবেন তারেক রহমান।’

বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় তারেক রহমানের। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগেই তারেক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান খালেদা জিয়ার প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে। পরে ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এর পরপরই দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে গণসংযোগ শুরু করেন। মূল দলসহ সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং মাঠপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। মূলত এ জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মধ্যে তারেক রহমান শুধু দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শুধু বিএনপি নেতাকর্মীরাই নন, দেশের সাধারণ মানুষও তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্ব দেখছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বের পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের যে ডাইমেনশন (মাত্রা) তার সঙ্গে মানুষ পরিচিত হচ্ছে। কারণ একটা সময় উনার বক্তব্য প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে। দেশের রাজনীতিতে শুদ্ধতা আনয়নে তারেক রহমান যে কত প্রয়োজনীয়, সেটা তার ভাষণ ও তৎপরতায় স্পষ্ট হয়েছে।’

এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘পরিবার ও আরাম-আয়েশ বাদ দিয়ে নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে দেশপ্রেম ও রাজনীতির পরিপক্বতার নিদর্শন। এটা দেশবাসী আগে প্রত্যক্ষ করতে পারেনি পতিত সরকারের নানারকম বিধিনিষেধের কারণে। এখন জনগণ তার (তারেক রহমান) বক্তব্য শুনছেন এবং মুগ্ধ হচ্ছেন। সেদিক থেকে বলা যাবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের পরিপক্বতার সঙ্গে সঙ্গে দলের মধ্যে বিন্যাস, পুনর্বিন্যাস, গঠন, পুনর্গঠন গতি পেয়েছে। এটার দরকার ছিল। কারণ একটি নদীর প্রাণ যেমন তার স্রোতে, তেমনি একটি দলের প্রাণ হচ্ছে গঠন, পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা, সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণ ইত্যাদি। এগুলো কিন্তু উনি একের পর এক করছেন। আর এর মাধ্যমে জাতির সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।’

তারেক রহমানের পরিপক্বতার কথা তুলে ধরে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের একটি নেতিবাচক কার্টুন আঁকা হয়। বিষয়টি তিনি খারাপভাবে নেননি বরং সেটি তিনি তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করে প্রমাণ করেছেন বিরুদ্ধমতও ধারণ করার মতো মানসিকতা উনার রয়েছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভীত শক্তিশালী করতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করবেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে পারলে এখন তিনি যা বলছেন, তা করে বাস্তবে প্রমাণ করবেন। অবশ্য ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই কিছু কাজ করছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির নেতাকর্মীরা দুর্নীতি, অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, বিদেশে পাচার করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণ এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। ব্যতিক্রম আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির কেউ কেউ নানারকম অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তদন্তের মাধ্যমে যার দোষ পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, রাজনৈতিক অনেক বিশ্লেষকও মনে করছেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজেকে পরিপক্ব নেতায় পরিণত করেছেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারেক রহমান রাজনীতিতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজেকে একজন পরিণত নেতায় পরিণত করেছেন। তিনি যতটা দলের নেতাদের মতামতকে ঠিক ততটা গুরুত্ব দেন জনগণের মতামতকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেন। বিগত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দলের পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ রেখে তৃণমূল নেতাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পর তার দলের (বিএনপি) কিছু নেতা চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সমালোচনা হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অপকর্মে জড়িতদের কাউকে বহিষ্কার, কাউকে সতর্ক করে দেন। আবার কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত দেন। এভাবে তিনি দলের নেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন গতানুগতিক রাজনীতি নয়, জনগণ যে রাজনীতি চায় সে রাজনীতি করতে হবে।’

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান। পাশাপাশি রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সংস্কার আনতে চান পূর্বে ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চান। এতে বোঝা যায় রাষ্ট্র পরিচালনায় যাওয়ার আগে তারেক রহমান দলকে পরিশুদ্ধ করতে চান। কারণ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে অনেক নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি। এমনকি তিনি ফোন করে অনেক নেতাকে পাননি। এখন তারা বড় নেতা সাজতে চান। কিন্তু এসব করে তারা লাভবান হবেন না। সবসময় তৃণমূল তার পাশে ছিল, আগামী দিনে তারেক রহমানও তৃণমূল নেতাদের পক্ষে থাকবেন। এখন তারেক রহমানের কাছে সবার আগে দেশ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত