কলেজছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৪২ এএম

কুষ্টিয়া শহরের ৪ নম্বর পৌর ওয়ার্ড কোর্টপাড়ার একটি ছাত্র মেসে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে বেধড়ক মারধর করে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে রুবেল (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের স্যার ইকবাল রোডের বনফুড বেকারির সামনে লাল মিয়ার চারতলা বাসার ছাদ থেকে কে বা কারা কলেজছাত্র রুবেলকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে মারধর করে নিচে ফেলে দেয়।

কয়েকজন পথচারী রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে রুবেলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রুবেলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। রাজশাহী যাওয়ার পথে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই মেসের চতুর্থ তলার বাসিন্দা স্থানীয় দোকান কর্মচারী কামরুল হাসান শুভ বলেন, ‘রাত পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে নিচে নেমে দেখি ভবনের লাগোয়া ড্রেন-সংলগ্ন গলিপথের ওপর রুবেলের হাত-পা ও মুখ বাঁধা অচেতন দেহ পড়ে আছে। আশপাশের লোকজন তাকে ঘিরে ছিল। পাশের একটি দোকান থেকে চাকু এনে হাতের বাঁধন কাটা হয় এবং দ্রুত রুবেলকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে রুবেলের পরিবারের লোকজন আসার পর রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হলে আমি হাসপাতাল থেকে চলে আসি।’

নিহত রুবেল কুমারখালী উপজেলার মির্জাপুর এলাকার শহিদুল ম-লের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কলেজের পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ওই চারতলা বাসার তিনতলার মেসে থাকতেন।

মেসের পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিকেল থেকে রুবেলকে চিন্তিত দেখা গেছে। সন্ধ্যার পরে আমরা একসঙ্গে মেসের খরচের হিসাবে বসেছিলাম। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে নিচে নেমে দেখি রুবেল পড়ে আছে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ওই মেসের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্বের কারণে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত