সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় দণ্ডিত সাংবাদিক শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত হলেও মাহমুদুর রহমানকে কেন কারাগারে যেতে হলো, সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান সাজা স্থগিতের আবেদন করলেও মাহমুদুর রহমান তা করেননি। সে কারণে দুজনের ক্ষেত্রে আলাদা ফল এসেছে। গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ ব্যাখ্যা দেন আসিফ নজরুল।
আলোচিত ওই মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিদেশে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মাহমুদুর রহমান। পরে গত রবিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। তবে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
ভিডিও বার্তায় আসিফ নজরুল বলেন, ‘এ ঘটনা (মাহমুদুর রহমানের কারাগারে যাওয়া) আপনাদের অনেককে দুঃখ দিয়েছে, কাউকে ক্ষুব্ধ করেছে। আপনাদের কাছে মনে হয়েছে, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আসা এই সরকারের সময়ে কেন ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম অগ্রনায়ক মাহমুদুর রহমান ভাই কেন কারাগারে আছেন। আমি ওনাকে (মাহমুদুর রহমান) খুবই শ্রদ্ধা করি। এ দেশে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদীদের যে শাসন ছিল সেটার বিরুদ্ধে বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন মাহমুদুর রহমান ভাই এবং এজন্য ওনাকে প্রচ- নিপীড়ন-নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। যেটার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। ওনাকে অবিশ্বাস্য চরম একটা ভুয়া মামলায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার শাস্তি দিয়েছিল। ওনার অবর্তমানে শাস্তি দিয়েছিল। এই মামলার মেরিট নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এ মামলায় বিচারকার্য সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। ওনাকে ইতিমধ্যে শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। উনি বাংলাদেশে আসার কিছুদিন আগে ওনার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একটা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছিল। উনি সেই মামলাতে সাজা স্থগিত চেয়ে আপিলের জন্য আবেদন করেছিলেন। এটা আইন মন্ত্রণালয় অর্থাৎ আমার কাছে আসে না। এটা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন অভিমত চেয়েছে, আমরা ইতিবাচক জোর সুপারিশ করেছি। আমাদের এই সুপারিশের ভিত্তিতে মাহমুদুর রহমান ভাইয়ের স্ত্রীর সাজা স্থগিত করে ওনাকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।’
ভিডিও বার্তায় আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান ভাই যে মামলায় শাস্তি পেয়ে আজকে জেলে আছেন, প্রকৃতপক্ষে এ মামলায় আরেকজন বরেণ্য সাংবাদিক শফিক রেহমানেরও সাজা হয়েছিল। উনি এই মামলার সাজা স্থগিত চেয়ে আপিলের আবেদন করেছিলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত করে ওনাকে মুক্ত মানুষ হিসেবে আপিল করার জন্য অনুমোদন করা হয়। কিন্তু মাহমুদুর রহমান ভাই এটা (আবেদন) করেননি।’ আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন উনি (মাহমুদুর রহমান) অত্যন্ত দৃঢ় আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন এবং উনি খুব দৃঢ়চেতা মানুষ। প্রচ- দেশপ্রেমিক মানুষ। ওনার এ রকম ব্যক্তিত্বের কারণে হয়তো তিনি মনে করেছেন উনি সাজা স্থগিতের আবেদন করবেন না বা অন্য কারণেই হোক আমি জানি না। উনি সাজা স্থগিত রেখে মুক্ত মানুষ হিসেবে আপিল করার কোনো আবেদন করেননি। ফলে এটা করার কোনো সুযোগ মন্ত্রণালয় বা সরকারের ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওনাকে (মাহমুদুর রহমান) যে আদালত ভুয়া মামলায় শাস্তি দিয়েছিল, উনি সেই আদালতে জামিন চাইতে গিয়েছিলেন। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধিতে আছে যদি কোনো আদালত কাউকে এক বছরের বেশি শাস্তি দেয় তাহলে সেই আদালত দোষী সাব্যস্ত ব্যাক্তিকে জামিন দিতে পারবে না। কিন্তু তার চেয়ে যে বড় আদালত অর্থাৎ মহানগর দায়রা আদালত, সেখানে যদি আবেদন করা হয় তাহলে সেই আদালত জামিন দিতে পারবে। মাহমুদুর রহমান ভাইয়ের আইনজীবী যাতে মহানগর দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারে, যেদিন রায় হয়েছে সেদিন দ্রুততার সঙ্গে ওনাকে সব কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজকে আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, উনি যেকোনো কারণেই হোক জামিনের আবেদনটা এখনো করেননি। জামিনের আবেদনটি করলেই ওই আদালতে (মহারগর দায়রা) জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আছে এবং ওনার জামিন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।’
