দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খামারি জহুরুল ইসলাম ফারুক হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে লাখ টাকা আয় করেন। উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পাড়ে তিন মাস আগে ১০০০ হাঁস নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেছিলেন।
জহুরুল দৌলতপুর ইউনিয়নের জানিপুর গ্রামের মো. জাফর আলী ও জরিনা দম্পতির ছেলে। তার স্ত্রী জেবা বেগমের অক্লান্ত পরিশ্রমে হাঁসের খামার জীবনের বাঁক বদলে দেয় পরিবারটির।
শুরুতে উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের জোতজয়রামপুর ছোট যমুনা নদীর পাড়ে ৩০ হাজার টাকায় ১০০০ 'ক্যাম্বেল' জাতের হাঁসের বাচ্চার সেড তৈরি করেন। এ জাতের হাঁসগুলো একটানা ১৮-২৪ মাস পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে।
পরবর্তীতে হাঁসগুলো ডিম দেওয়ার উপযুক্ত হলে পার্শ্ববর্তী জানিপুর গ্রামের ৮ শতক জমিতে তৈরি 'বাঁধন বিভা হাঁস' খামারে হাঁসগুলো স্থানান্তর করেন।
তিনি জানান, ১০০০ হাঁসের মধ্যে ৬২০টির ওজন প্রায় দেড় কেজি। এগুলো ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৩৮০টি হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে এখন ২৫০-২৭০টি ডিম পাচ্ছেন, যার পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে। তিনি আশা রাখেন, শীত মৌসুমে খামার থেকে আশানুরূপ ডিম পাবেন।
জহুরুল ইসলাম ফারুক বলেন, খামারে উৎপাদিত হাঁসের ডিম থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করে থাকেন। হাঁসের খামার পরিচর্যার জন্য তার ভাগনে সরোয়ার হোসেন থাকেন।
জহুরুল ইসলাম ফারুক বলেন, হাঁসের খাবার, ওষুধ ও কর্মচারীদের বেতন দিয়ে প্রতিমাসে ৫০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।
বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নদী, খাল-বিলে ভরা এ উপজেলায় হাঁস পালন ব্যাপক সম্ভাবনাময়। উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছেন। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করি।
তিনি জানান, হাঁস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং বিপণন ব্যবস্থা ভালো থাকায় উপজেলায় দিন দিন খামারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ পর্যন্ত উপজেলায় ৩৪টি খামার রয়েছে।
ববির বন্ধু তাই...
নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার