জোড়া গোলে ৪৬তম শিরোপা মেসির

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:১৯ এএম

মেসি যখন ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তখন মেজর লিগ সকারে ছিল মৌসুমের মাঝপথ। সেবার লিগস কাপ জিতলেও লিগে নিজেদের কনফারেন্সে পয়েন্ট টেবিলের ১৪ নম্বরে শেষ করেছিল মায়ামি। তবে এবার মৌসুমের শুরু থেকেই দারুণ খেলছে মায়ামি। সেই ধারাবাহিকতায় ক্লাবটি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিতল ‘সাপোর্টারস শিল্ড’। মেজর লিগ সকারে লিগ পর্বে দুই কনফারেন্স মিলে শীর্ষে থাকলে তাকে দেওয়া হয় এই মর্যাদা। মেসির জোড়া গোলে দ্বিতীয় স্থানের কলম্বাস ক্রুকে ৩-২-এ হারিয়ে শিল্ড জয় নিশ্চিত করে মায়ামি। মেসি জেতেন তার ৪৬তম শিরোপা।

কলম্বাসের মাঠে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দারুণ লড়াই জমে উঠেছিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে (যোগ করা সময়সহ) দুই গোল করে ম্যাচ একপেশে করে ফেলেন লিওনেল মেসি। নিজেদের অর্ধ থেকে উঁচু করে বল বাড়ান জর্দি আলবা। দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দৌড়ে গিয়ে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল নিয়ে খানিকটা এগিয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের খানিকটা বাইরে কিছুটা বাঁদিকে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন মেসি। তাতে মৌসুমে লিগে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৭-তে।

ফ্রি-কিক থেকে এটি মেসির ৬৬তম গোল। পেছনে ফেলেছেন মায়ামিরই বর্তমান মালিক ইংল্যান্ডের ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামকে। ফ্রি-কিক থেকে গোলে মেসির ওপরে আছেন দুজন, তারা হলেন পেলে (৭০) ও জুনিনহো (৭৭)।

৪৬ মিনিটে কলম্বাসের ডিয়েগো রসি একটি গোল শোধ দেন। দুই মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান লুইস সুয়ারেজ। এই মৌসুমে লিগে এটি সুয়ারেজের ১৮তম গোল। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরেকটি গোল শোধ দেন হার্নান্দেজ। দুই মিনিট পরই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ানে কলম্বাস ক্রুর রুডি কামাচো। ৮০ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল কলম্বাস। পেনাল্টি পায় তারা। তবে হার্নান্দেজের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মায়ামির গোলকিপার ড্রেক ক্যালেন্ডার।

সাপোর্টারস শিল্ড জেতা মেসির চোখ এখন এমএলএস কাপের দিকে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেন, ‘প্রথম উদ্দেশ্য অর্জন হয়েছে, এখন আমাদের সামনে কী আছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রথম রাউন্ডে আমাদের সুবিধা আছে, কিন্তু তারপর থেকে এটি এক ম্যাচের খেলা, আর কিছু হতে পারে... তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আমরা সব ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলব। এটি আমরা চেয়েছিলাম। ঘরের মাঠে আমরা খুবই শক্তিশালী। যখনই আপনি অন্য কোনো এমএলএস স্টেডিয়ামে খেলতে যান, এটি সহজ নয়। কিন্তু নিজেদের মাঠে আমরা বড় একটি সুবিধা পাই। আমাদের এটি প্রমাণ করতে হবে।’ ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল হওয়ায় মায়ামি প্লে-অফে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পেতে যাচ্ছে।

বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল মায়ামির পয়েন্ট ৩২ ম্যাচে ৬৮, ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল এলএ গ্যালাক্সির পয়েন্ট ৩২ ম্যাচে ৬১। মায়ামির নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচ হারলে ও এলএ গ্যালাক্সি শেষ দুটি ম্যাচ জিতলেও মেসি-সুয়ারেজদের ছুঁতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত