ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও লক্ষ্মীপুরে দুই শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা এ অভিযোগগুলো দায়ের করেন। অভিযোগগুলো দাখিলে আইনি সহায়তা দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
আন্দোলনের সময় গত ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী কাজলা পেট্রোল পাম্পের পাশের পকেট গেটে গুলিতে হত্যাকা-ের শিকার দনিয়া কলেজের বিএ (পাস) কোর্সের ছাত্র শহীদ সাকিব হাসানের বাবা মো. মর্তুজা আলম ও গত ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমোহনি এলাকায় গুলিতে হত্যাকা-ের শিকার চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র শহীদ ওসমান পাটওয়ারী ওরফে ওসমান গণির বাবা আব্দুর রহমান সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে নাগরিক কমিটির তত্ত্বাবধানে এ অভিযোগগুলো দেন। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় ২৫ নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণঅভ্যুত্থানে এক দফা তথা ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নাগরিক কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছিল। জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রাথমিক কাজ হিসেবে ঘোষিত ৮ দফা কর্মসূচির দ্বিতীয় দফা তথা ‘ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত নির্মম হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা’। এটি বাস্তবায়নে জাতীয় নাগরিক কমিটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান শুরু করেছে।
