গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারগুলোতে পলিথিন রাখা ও ক্রেতাদের দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোন সুপারশপে পলিথিন পাওয়া গেলে এবং ক্রেতাদের দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান। সুপারশপে পলিথিন নিষিদ্ধের পর পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করছে তা নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে একধরনের কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
পলিথিন নিষিদ্ধের ৫ দিনে সুপারশপগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে তা দেখতে রাজধানীর কয়েকটি সুপারশপে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্রেতা ব্যাগ ছাড়াই বাজার করতে সুপারশপগুলোতে আসছেন। ক্রেতাদের অধিকাংশই অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বাজার করছেন। তাই প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রেতা ব্যাগ ছাড়াই বাজার করছেন। এজন্য প্রত্যেকটি সুপারশপ পলিথিনের বদলে পাট ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করছেন। এতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ব্যাগের ধরণ অনুযায়ী দাম রাখছে সুপারশপগুলো। এদিকে ব্যাগের বাড়তি দাম রাখায় কিছু ক্রেতাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে পলিথিন বন্ধের পর ‘কাগজের ঠোঙা’ ব্যবহার বেড়েছে অধিকহারে। যতই দিন যাচ্ছে ক্রেতারা ততই বিষয়টির সঙ্গে অভ্যস্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে সুপারশপগুলো।
রাজধানীর পান্থপথে আগোরা সুপারশপে গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এই সুপারশপে রাজধানীর একটি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্রেতাদের পাঠের ব্যাগ ব্যবহারে সচেতনার জন্য কাজ করছেন। তারা পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উপকারিতা বিষয়ে ক্রেতাদের অবহিত করছেন। তাদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারণ পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়টি ক্রেতা ও বিক্রেতারা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। তবে এই উদ্যোগ কতদিন কার্যকর হয় তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর আইনের প্রয়োগের কথা বলেছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর পান্থপথের স্বপ্ন সুপার শপটিতে ক্রেতাদের জন্য পাটের ও কাপড়ের ব্যাগ রাখা হয়েছে। সেখানে শুধু পাটের ব্যাগ ১১ টাকা, পাট ও সুতার ব্যাগ ছোট ১১টাকা, পাট ও সুতার ব্যাগ একটু বড় ১২ টাকা, পাট ও সুতার ব্যাগ ১৪ টাকা, কাপড় ও পাটের ব্যাগ ৬ টাকা, কাপড় ও পাটের ব্যাগ ৮ টাকা এবং কাপড় ও পাটের ব্যাগ ১১ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা বাজার করার পর প্রয়োজন মত ব্যাগ সেখান থেকে কিনছেন। এভাবে প্রত্যেকটি সুপারশপে বিভিন্ন রকমের পাট ও কাপড়ের ব্যাগ রাখা হয়েছে। ক্রেতারা পছন্দ ও প্রয়োজনীর মতো ব্যাগ কিনে বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে মিশ্রু প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্বপ্ন সুপারশপে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে ফ্রি’তে পলিথিনে কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আমরা নিতে পারতাম। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এখন আমাদের ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করা উচিত ছিল। অথবা সুপারশপগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পলিথিন বিকল্প রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এতে ক্রেতারা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও উৎসাহী হতেন।’
সুপারশপে পলিথিন নিষিদ্ধের পরের অভিজ্ঞতার বিষয়ে রাজধানীর পান্থপথের আগোরা সুপারশপের আউটলেট ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই আমাদের সুপারশপে পলিথিন ব্যবহার করতাম না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আমরা খুবই খুশি। পলিথিন বন্ধের নিষিদ্ধ পর থেকে ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া মিলছে। সবাই বিষয়টিকে পজেটিভলি নিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন। আমাদের সুপারশপে নিজস্ব ব্যাগ রয়েছে। এছাড়াও কাঁচাবাজার বাদে অন্যান্য সামগ্রী আমরা কাগজের ঠোঙা দেওয়ার করছি। তবে এখন কাগজের ঠোঙাই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।’
পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ১৪৪২১ কোটি টাকা: সিপিডি
ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর
পানিবন্দিতে ঘরে নেই খাবার, ৯৯৯- এ কল