প্রতারকের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে জীবন শঙ্কায়

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:০৫ এএম

‘বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে একটু সুখে দেখব এ আশায় জামাই ভুট্টু মিয়াকে (৩০) সৌদি আরবে পাঠাই আট মাস আগে। কিন্তু বিদেশ যে এত বড় সর্বনাশ ডেকে আনবে সেটা বুঝতে পারিনি। জামাই বিদেশ গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু জীবন বাঁচানোর ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সে সুস্থ শরীরে বাড়িতে এলেই শান্তি। প্রতারকের জন্য জামাইয়ের জীবন এখন শঙ্কায়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটী গ্রামের দুল্লু মিয়া (৫৫)।

কৃষক দুল্লু মিয়া আরও বলেন, বিদেশ পাঠাতে চাইনি। প্রতিবেশী ফরমান আলীর ছেলে কামরুল হাসান লিটন (৪০) আমার জামাইকে বিদেশ পাঠানোর লোভ দেখায়। পরে বাধ্য হই সৌদি পাঠাতে। টাকা ছিল না বলে গরু বিক্রি করে আর সুদে নিয়ে দেড় লাখ টাকা দিই। বিধবা বেয়াইন জমি বন্ধক এবং সুদে নেয় বাকি টাকা। লিটনের কথামতো মোট ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা দিই গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে। ৩ দিন পর ৭ তারিখে ফ্লাইট হয়। ভাবছিলাম বিদেশে উপার্জনের টাকা পাঠালে সুদের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু আট মাস হচ্ছে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জামাই।

 এ বিষয়ে কামরুল হাসান লিটনের সঙ্গে একাধিক মিটিং করা হয়েছে। তিনি আমাদের পাত্তাই দিচ্ছেন না। পরে বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ প্রতারণার শিকার কেবল তিনি একাই নন। লিটনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন একই গ্রামের মাইদুল ইসলাম। কথা হয় তার স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে (২৫)। তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাঝেমধ্যে অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে আমার স্বামী কল করে বলেন, আমরা খুবই বিপদে আছি। আকামা দেওয়া হয়নি। জীবন বাঁচাতে তাই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তোমরা আমাদের উদ্ধার করো।

কাকলী আরও বলেন, আমিও বিদেশ পাঠাতে চাইনি আমার স্বামীকে। লিটন দিন-রাত তাকে ফুসলিয়ে রাজি করান। বিদেশ পাঠাতে ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার পুরোটাই সুদের ওপর নিয়েছি। আট মাস হচ্ছে স্বামী নেই। পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিদেশের মাটিতে। আর এদিকে দুটি মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে আমাদের। তার ওপর সুদের টাকা পরিশোধ করতে বাড়তি চাপ। এ নিয়ে লিটনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা নাকি মিথ্যা বলছি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযুক্ত কামরুল হাসান লিটন বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। আমি ঢাকার একটি অফিসের মাধ্যমে বিদেশ গিয়েছিলাম। সেই অফিসের ঠিকানা তাদের দিই। পরে তারা বিদেশে যায়। আমি শুধু মিডিয়া হিসেবে কাজ করেছি। তারা সৌদিতে ভালো আছেন।

এ বিষয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছিলাম। সালিশি বৈঠকের নির্ধারিত তারিখে লিটন ও তার বাবা ফরমান আলী আসেনি। বাবা-ছেলে উভয়ই প্রতারক। ভুট্টু ও মাইদুল জীবন বাঁচাত পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ

থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, এ বিষয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত