মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে বাউল গানের আসরে প্রতিবেশীর হামলায় একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্নসহ ৪ জন আহত হওয়ায় খবর পাওয়া গেছে। আহত ৪ জনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের নুরুজ্জামাল জামাল (৬৫), তার ছোট ভাই মুক্তার হোসেন (৩৭) ও চাচাতো ভাই সাকিব (২৩), নাতি হামিম (১৪)।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের ফজলুল করিমের সঙ্গে বাসেত মিয়ার বিরোধের জেরে গত রজমান মাসে ফজলুলের ভাতিজা সজীব বাসেতকে কুপিয়ে জখম করলে হাসপাতালে নিয়ে যায় আরেক প্রতিবেশী নুরুজ্জামাল। এই ঘটনায় নুরুজ্জামালের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ফজলুল করিম ও তার আত্মীয়-স্বজনরা। ওই ঘটনার জেরে গত শনিবার দিবাগত রাতে বাউল গানের আসরে প্রতিবেশী সজীব, জাহাঙ্গীর, ফজলুল করিম, নান্নু, বাবু, রবিউল আউয়াল, হাসানসহ কয়েকজন রামদা ও ছুরি দিয়ে হামলা করে নুরুজ্জামালের এক হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাকে বাঁচাতে ছোট ভাই মুক্তার এবং পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
নুরুজ্জামাল বলেন, ‘আমি তাদের বিরোধের মধ্যে ছিলাম না, এ ব্যাপারে জানিও না। একজন আহত মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম এটাই আমার অপরাধ। ওরা শুধু শুধু আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসী সজীব দা দিয়ে কুপিয়ে আমার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।’
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে নুরুজ্জামাল ও মুক্তার হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুক্তার হোসেনের গায়ের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহত অপরজন হামিমকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা সবাই পলাতক। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
