সালাউদ্দিনকে নিয়ে বোমা ফাটালেন মেজবাহ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০২:১২ এএম

দুদিন আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে নির্বাহী কমিটির সভায় অভিজ্ঞ মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে ঘোষিত হয় তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। ২৬ অক্টোবর নির্বাচন আয়োজনে রবিবার থেকে কাজ শুরু করেছে কমিশন। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সে পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল। এরপর আগের চার নির্বাচনে একই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে বোমা ফাটালেন মেজবাহ। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনস্থল প্রভাবমুক্ত দাবি করে তিনি আগের তিন নির্বাচনে রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তোলেন চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে! মোটা দাগে মেজবাহর বক্তব্য পরিষ্কার হয়েছে, নিজের পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে সালাউদ্দিন রাজনীতিকে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়েছেন!

রবিবার সন্ধ্যায় দুই নির্বাচন কমিশনার সুরাইয়া আখতার জাহান ও ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমানকে নিয়ে বাফুফে ভবনে প্রথম সভায় বসেছিলেন মেজবাহ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হবে সেই আশায় আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংবাদকর্মীরা। তবে নির্বাচনী তফসিলের জন্য অপেক্ষায় রাখলেন তিনি। ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ ও ২০২০ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মেজবাহ এতদিনের বিতর্কটাই উসকে দিলেন, ‘বিগত চার নির্বাচনের মধ্যে প্রথমটা ব্যতিক্রমী। তখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় ছিল না; সামরিক সরকার ছিল। আমরা সামরিক সরকার থেকে কোনো ধরনের চাপ কিংবা কোনো ধরনের ইঙ্গিত, কোনো রকম আভাস পাইনি। পরের তিনটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন হিসেবে কখনই কোনো রাজনৈতিক পক্ষ হাজির হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা হলো প্রার্থী হওয়া না হওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব কাজ করেছে। সেটা আমার ইস্যু না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছে বলে অমুক জিতবে, আমি যাব না। কিংবা অমুক দাঁড়িয়েছে, তাকে আমি বসিয়ে দেব, এসব ছিল আমার আওতার বাইরে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হতে যাচ্ছে এবারের নির্বাচন। তাই মেজবাহও আশাবাদী একটা প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের ব্যাপারে, ‘সামনে যে নির্বাচন, এটা সেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো, এখন কোনো রাজনৈতিক সরকার নেই। সুতরাং প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো...। আগের যে হাওয়া ছিল, সেই হাওয়াটা এখন আর নেই, ভেগে গেছে। আশা করি মুক্ত পরিবেশে আবার সুন্দর একটা ভোট হবে। এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, এটা আমার শেষ ভোট। আমার চারটা নির্বাচনে একজন ব্যক্তি জিতবে, এই অপবাদ থেকে আমি আশা করি বের হয়ে আসতে পারব।’ তারপর যোগ করেন, ‘এসব কিছু কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বাইরে, ভোটকে আপনি দোষী করতে পারবেন না। আমরা যতই নির্বাচন কমিশনকে গালি দিই, ভোট তো নির্বাচন কমিশন করে না। ভোট করে কে? ভোটার এবং প্রার্থী। (সালাউদ্দিন সাহেব) প্রভাব বিস্তার করেছেন বাইরে, হলের ভেতরে না। সেটা হলো প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে। যেমন ধরেন ২০১২ সালে যখন নির্বাচন হয়, রহিম সাহেব (আব্দুর রহিম) প্রার্থী হয়েছিলেন। উনি বাধ্য হয়েছেন আবেদন করতে আমার কাছে যে আমি প্রত্যাহার করলাম। ততক্ষণে প্রত্যাহারের সময় শেষ। আমি বললাম আপনার প্রত্যাহারপত্র আমি গ্রহণ করতে পারব না কারণ সময় শেষ। উনি কেন বাধ্য হলেন? এই প্রশ্নের জবাব আপনারা বের করেন, আমি এর জবাব দেব না। তারপর মনি লাল ফার্নান্দোকে ব্যবহার করা হয়েছে, ফিফার প্রতিনিধি। কংগ্রেসের ভোট নিতে হয়েছে। আমি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। কংগ্রেস অথবা ফিফার সিদ্ধান্তে তার ব্যালট পেপার সরানো হয়েছে। এই যে কেন সরানো হলো, এই প্রশ্নের মধ্যেই আপনার প্রশ্নের উত্তর আছে।’ গত নির্বাচনে ভোট গণনা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন মেজবাহ, ‘গণনা হয় সবার সামনে, দুই, তিন বা চার পক্ষের প্রতিনিধি আমাদের সামনে উপস্থিত থাকেন। সবার সামনে ব্যালট পেপার খোলা হয়, আমরা ঘোষণা করি এই ব্যালটের ভোট কে কে পেল, একটা একটা করে ঘোষণা করা হয়। দেখায় দেখায় যদি ফল বলা হয়, তারপর যদি কেউ বলে যে ভুল বলছেন, এই প্রশ্ন তো আমলে নেওয়া যাবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত