বিদায়ী টেস্ট খেলতে সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার আভাস মিলেছে। ঘরের মাঠে খেলেই এই অলরাউন্ডারের অবসরের সম্ভাবনা ‘ভালো’ বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। ‘সাকিবের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে। সাকিবের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশ থেকেই অবসর নেওয়ার।’ গতকাল মিরপুরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান ফারুক আহমেদ।
দেশে ফিরলে সাকিবের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুদিন আগে বেশ কড়া মন্তব্য করেছিলেন ফারুক আহমেদ। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি ও অন্য বোর্ড কর্তারা আড়ালে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের দেশে ফেরার পথ সুগম করতে।
কদিন আগে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন সাকিব জানান, টেস্ট ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে চান তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে। এই টেস্ট শুরু হবে আগামী ২১ অক্টোবর। সাকিবের এই চাওয়া পূরণের পথে মূল বাধা তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলা। মামলা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলে কতটা নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং নির্বিঘেœ আবার দেশ ছাড়তে পারবেন কি না, এ রকম নিশ্চয়তা তিনি চেয়েছিলেন বিদায়ের ঘোষণার সময়।
সেদিনই ঢাকায় বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, সাকিব দেশে ফিরলে তার বিদায় রাঙানোর আয়োজন তারা করবেন, কিন্তু তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বোর্ড দিতে পারবে না। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছিলেন, রাজনৈতিকভাবে সাকিবকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা ৩ অক্টোবর নারী বিশ্বকাপ উদ্বোধনের দিন আমিরাতে প্রথম সবুজ সংকেত দেন দেশের মাটিতে সাকিবের শেষ টেস্ট খেলার ব্যাপারে। বলেন, দেশে ফিরলে সাকিবকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে চান, এই অলরাউন্ডারের বিদায় দেশ থেকেই হোক।
এবার ফারুক আহমেদের কণ্ঠের সুরেও বদলের ছোঁয়া পাওয়া গেল। আইনি জটিলতা দূর করার দায়িত্ব অবশ্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। তবে নিজেদের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে রাখলেন বিসিবি প্রধান। ‘আইনি দিকটা আমি বলতে পারব না। তা আসতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। আমি ছোট মানুষ, বোর্ড প্রেসিডেন্ট, আমার হাতে ক্ষমতা খুব কম। সাকিবের ব্যাপারটা পুরোপুরি সরকার পর্যায় থেকে আসতে হবে।’ বিসিবি সভাপতি ব্যাখ্যা করেছেন সাকিবের নিরাপত্তায় তাদের হাতে থাকা বিষয়গুলো। তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু ক্ষমতা সাকিব মাঠে খেলবে, ইনডোরে যাবে, এসব জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়াটা তো আমাদের জন্য সহজ।’
এদিকে গতকালের বোর্ড সভায় গুরুত্ব পেয়েছে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের জন্য বিসিবির অধীনে নতুন মাঠ নিশ্চিতের বিষয়টি। ফারুক আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘গ্রাউন্ড নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। পুর্বাচলে দুটি মাঠের একটি চালু করা হতে পারে। বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর যত মাঠ আছে সেখানে ফ্যাসিলিটি ডেভেলপ করে আমরা ব্যবহার করতে পারি কি না তা নিয়ে আমার কথা হয়েছে। এতে তারাও ক্রিকেট খেলতে পারবে। আমি যোগাযোগ করে এরই মধ্যে একটা মাঠ পেয়েছি। আরও পাওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করছি। আমিনবাজারে আরেকটা গ্রাউন্ড আছে, যেখানে ছোট কিছু ফ্যাসিলিটিজ ঠিক করলেই হবে। পিকেএসপির (পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) দুটো মাঠ আছে। সেগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।’
এ ছাড়া মিরপুর স্টেডিয়ামের করপোরেট বক্সগুলোর রেনোভেশন নিয়ে কথা হয় বোর্ডসভায়। ২-১২ নভেম্বর আফগানিস্তান সফর নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম নিয়েও বোর্ড সভায় আলোচনা হয়।
