আত্মগোপনে থাকাদের ভবিষ্যৎ কী

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৬ এএম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এখন অনেক রাজনীতিবিদ গা-ঢাকা দিয়েছেন। অনেকেই দেশত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেরও বেশ কয়েকজন কর্তার খোঁজ মিলছে না। এদের মধ্যে আছেন তিন সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহি। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্যদেরও কেউ কেউ আসছেন না প্রকাশ্যে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে থেকে ২৬ অক্টোবর নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন কি না? গতকাল সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিনকে। জবাব দিতে গিয়ে মেজবাহ নিজেও খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। মিডিয়া থেকে আসা এমন প্রশ্নের জবাবটা যেন তারও হলফ করে জানা নেই।

‘একজন বিদেশ থেকে (মনোনয়নপত্র) পাঠালেন, তার স্বাক্ষর আমরা যাচাই করব কীভাবে? যদি এটি সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভেরিফাই হয়ে আসে তখন দেখা যেতে পারে।’ আগামী ৯, ১০ ও ১২ অক্টোবর ২১টি পদের বিপরীতে বিলি হবে মনোনয়নপত্র। একটি সভাপতি পদে মনোনয়নপত্রের মূল্য ১ লাখ টাকা। একটি সিনিয়র সহসভাপতি পদের মনোনয়নপত্র নিতে খরচ করতে হবে ৭৫ হাজার টাকা। চারটি সহসভাপতি পদের মনোনয়নপত্রের মূল্য ৫০ হাজার টাকা ও ১৫টি নির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী হতে হলে খরচা হবে ২৫ হাজার টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, এই মনোনয়নপত্র বিদেশে অবস্থানরত কেউ সংগ্রহ করতে পারবেন কি না? মেজবাহ জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্রের ওপর আপত্তি আনার সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি আপত্তি তোলেন, তবে অভিযুক্তকে শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে সশরীরে। উপস্থিত না হলে সেই ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হবে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য রাখা হয়েছে দুদিন ১৪ ও ১৫ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে তার পরের দিন। ১৭ অক্টোবর জমাকৃত মনোনয়নপত্রের ওপর আপত্তি দাখিলের সুযোগ থাকবে। এই আপত্তির ওপর শুনানি হবে ১৮ অক্টোবর। ১৯ ও ২০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত থাকবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ। ২০ অক্টোবর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ও ব্যালট নম্বর প্রদান করা হবে। এরপর ২৬ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা চলবে বিরামহীন ভোট। সে রাতেই ঘোষণা করা হবে ফলাফল।

এবার ১৩৩ জন কাউন্সিলরের রায়ে ২১ জন ফুটবল নেতার নির্বাচিত হবে। এই ১৩৩ জন নিয়েও আছে অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে বেশ কিছু কাউন্সিলরশিপ বাতিল হওয়ায় বঞ্চিতরা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন বলে খবর। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান বলেন, ‘ভোটার তালিকার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাহী কমিটির এখতিয়ার। আদালতের কোনো নির্দেশনা থাকলে ভোটার-সংক্রান্ত, সেটা নির্বাহী কমিটিই দেখবে।’

কাউন্সিলর তালিকায় একজন হত্যা মামলার আসামি রয়েছেন। এ ব্যাপারে হচ্ছে কড়া সমালোচনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবশ্য জানিয়েছেন আদালত কাউকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত মামলার আসামিদের নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোট প্রদানে কোনো আইনি বাধা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত