বয়সকে দূরে ঠেলে দিয়ে অর্ধশত বছর ধরে সুনিপুণ দক্ষতায় প্রতিমা নির্মাণ করে যাচ্ছেন রাজবাড়ীর অমল পাল (৭০)। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা না থাকলেও নিখুঁত আকার দিয়ে তৈরি করছেন প্রতিমা। শুধু টাকার জন্য নয়, প্রতিমা বানানোর নেশার কারণেই তিনি ছাড়তে পারছেন না এ কাজ। তবে এখন নতুনদের এ কাজে আসার তেমন একটা আগ্রহ নেই বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের বরাট বাজারের পাল পরিবারে জন্ম অমল পালের। জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পড়ালেখা করতে পারেননি। বাবার পেশা ছিল প্রতিমা বানানো। বাবার সঙ্গে থাকতে থাকতেই তিনিও হাতে-কলমে শেখেন প্রতিমা বানানোর কাজ। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এখনো তিনি থামেননি। অর্ধশত বছর ধরে করে যাচ্ছেন এ কাজ।
আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার সব শিল্পীই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা নির্মাণে। অমল পালও পিছিয়ে নেই। সাতজন সহকারী নিয়ে ২২টি পূজা ম-পের প্রতিমা নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে চুক্তিতে এসব কাজ করছেন।
রাজবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি সার্বজনীন পূজা ম-পে গিয়ে দেখা যায়, অমল পাল ম-পের প্রতিমা বানানোর কাজে ব্যস্ত আছেন। ম-পে দেবী দুর্গা, কার্তিক, গণেশসহ বেশির ভাগ প্রতিমার মাটির কাজ শেষ। এখন চলছে রঙ করা।
এ সময় অমল পাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে থেকে কাজ করা শিখেছি। এখন বয়স হয়েছে। আগের মতো সময় দিয়ে কাজ করতে পারি না। তারপরও প্রতিমা বানানো আমার কাছে নেশা ও সাধনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কাজ ছাড়তে পারি না। এ বছর মোট ২২টি প্রতিমা নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। আষাঢ় মাস থেকে শুরু করেছি। আর মাত্র অল্প দিন বাকি পূজা শুরুর। তাই এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। বেশিরভাগ ম-পের গঠন প্রণালির কাজ শেষ। এখন বাকি রয়েছে রঙ দেওয়া ও সাজসজ্জার কাজ।’
অমল পাল বলেন, ‘সাধারণত দুই ধরনের প্রতিমা নির্মিত হয়ে থাকে। একটা হলো সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে করা। আরেকটা মাটির ওপরে বিভিন্ন অলংকার দিয়ে করা হয়ে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার তিন ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেরাও প্রতিমা নির্মাণের কাজ বেছে নিয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে সব জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরা যে টাকায় প্রতিমা বানাচ্ছি, তা দিয়ে ভালো মতো চলে না। সহকারীদের বেতন দিয়ে অল্প কিছু টাকা থাকে। এছাড়া সারা বছর এই কাজ থাকে না। তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। রাজবাড়ীতে ২৫ থেকে ৩০ জন প্রতিমা শিল্পী রয়েছেন। সবারই একই অবস্থা।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ৪৪১টি পূজা ম-পে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবগুলো ম-পের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে রঙ করা ও সাজসজ্জার কাজ।
