ঘুরে দাঁড়াতে পারবে হামাস!

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২৬ এএম

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। ইসরায়েলের সঙ্গে গত এক বছর ধরে যুদ্ধে লিপ্ত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি। ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় বহু ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে গোষ্ঠীটি। গাজা যুদ্ধের এক বছর পূর্তিতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা হামাসের অন্তত ৪০ হাজার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এতসব ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সংগঠনটি ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা হামাস নেতা খালেদ মেশাল।

৬৮ বছর বয়সী মেশাল বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ইতিহাস চক্রাকার। সংগ্রামের কোনো একপর্যায়ে আমাদের অনেকে শহীদ হয়। আমাদের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পায়। কিন্তু ফিলিস্তিনি চেতনা আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। অনেকটা পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতোই।’ ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হামাসকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেশাল। ১৯৯৭ সালে বিষ ভর্তি ইনজেকশন ব্যবহার করে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েল। প্রায় তিন দশকের বেশি হামাসকে নেতৃত্ব দেওয়া মেশাল গোষ্ঠীটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন। তিনি বর্তমানে হামাসের কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশ্বে বিবেচিত। মেশাল আরও বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু হামাস এখনো তরুণদের দলে নিয়োগ দিচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।’ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষকদের মতে, মেশালের এই বক্তব্য হামাস যোদ্ধাদের উজ্জীবিত করবে। যত ক্ষয়ক্ষতিই হোক না কেন, হামাস যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

গত বছর ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকায় হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে ২৩ লাখ বাসিন্দার এই উপত্যকায় নির্বিচারে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ হাজার ৮৭০ জন নিহত হয়েছেন। জনসংখ্যার হিসেবে গাজার প্রতি ৫৫ জনের একজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের প্রায় ৭০ ভাগই নারী ও শিশু। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ২৮ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে শিশু ১৬ হাজার ৭৫৬ জন। আর নারী ১১ হাজার ৩৪৬ জন। এই এক বছরে ইসরায়েলের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭ হাজার ১৬৬ ফিলিস্তিনি। গাজার মোট জনসংখ্যার হিসেবে ইসরায়েলের হামলায় প্রতি ২৩ জনের একজন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। শুধুমাত্র হাসপাতালে আসা হতাহত ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া হামলায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারের বেশি মরদেহ পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত