ভারী বর্ষণ ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফলে জামালপুর পৌর শহরের পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, জামালপুর-শেরপুর সেতুসহ ঘরবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কয়েকদিন ধরে ধস শুরু হলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০১৩ সালে ব্রহ্মপুত্র সেতু থেকে পাথালিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় জামালপুর-শেরপুর সেতুর নিচের অংশে প্রায় ২০ মিটার বাঁধ ধসে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সিসি ব্লকসহ বাঁধের মাটি সরে যাওয়ায় জামালপুর-শেরপুর সেতুর পিলারের একদম গোড়ায় এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটি। ধসে যাওয়া অংশের আশপাশেও বেশ কয়েকটি ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে শহররক্ষা বাঁধ ধসে যাচ্ছে। শহরের ছনকান্দা এলাকা থেকে পিয়ারপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হয়। নদী খননের নামে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচ থেকেও বালু তোলা হয়। এতে মাটি সরে গিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন এসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আর কয়েকদিন থেকে বাঁধ ভাঙলেও তা মেরামতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা দ্রুত শহররক্ষা বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ছনকান্দা উত্তর কুটরিয়া এলাকার শাদ বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পানি নিষ্কাশনের জন্যই শহররক্ষা বাঁধ ধসে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র সেতুর পূর্ব পাশে ছনকান্দা থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এর ফলে বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় মহাসড়কও ধসে যাবে।’
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে ইউএনও জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, ‘যে জায়গায় শহররক্ষা বাঁধ ধসে গেছে, সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘খুব দ্রুত ভাঙন অংশটুকু মেরামত করা হবে।’
