বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে মাছ ধরার ছয়টি ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এতে ট্রলারের এক মাঝি গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জেলে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে। গতকাল বুধবার সকালে ডাকাতের কবলে পড়া একটি ট্রলার উপকূলে ফিরে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আল্লাহর দান নামের ওই ট্রলারের মাঝি আবদুস শুক্কুর, জেলে মহিউদ্দিন, আলমগীর, ফোরকান, আলমগীর, আরমান, মিনহাজ, ইউনুস, আহমদ ছাফা, ইদ্রিস ও আবদুস সবুর। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আবদুস শুক্কুরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের সবাই উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ডাকাতের কবলে পড়া অন্য ট্রলারগুলোর মালিক হলেন মো. ইয়াছিন, আবদুস সবুর, মো. ইদ্রিস, গিয়াস উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ও মো. আলী। তবে এসব ট্রলার উপকূলে ফিরে না আসায় আহত জেলেদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহত মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার আনোয়ারা উপকূলের শঙ্খ নদ থেকে ২০ থেকে ২৫টি মাছধরা ট্রলার সাগরে যায়। প্রতিটি ট্রলারে ১২ জন করে মাঝিমাল্লা ছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে ট্রলারে করে ২০-২৫ জন ডাকাত এসে ওই ছয়টি ট্রলার ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতরা গুলি করতে করতে জেলেদের ট্রলারগুলোয় উঠে পড়ে। একপর্যায়ে ডাকাতরা মাঝিমাল্লাদের মারধর করে এসব ট্রলারের মালামাল, মাছ ও মজুদ থাকা খাদ্য-জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে যায়।
আল্লাহর দান ট্রলারের মালিক আবদুস সবুর বলেন, ‘ডাকাতরা ট্রলারের মাছ, তেলসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। গতকাল ট্রলারটি উপকূলে ফিরে এলে গুলিবিদ্ধ মাঝিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
আনোয়ারার বারআউলিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিটু দত্ত বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনাটি গভীর সমুদ্রে ঘটেছে। বিষয়টি আমরা নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছি।’
