কুড়ি-বিশে চরিত্র দাঁড়ায়নি বাংলাদেশের

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:৫৯ এএম

‘১৮ বছর বয়স কি দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তুলবার ঝুঁকি’, সেই কবে লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি খেলছে ২০০৬ সাল থেকে, সেই হিসেবে ক্রিকেটের নবতম আন্তর্জাতিক সংস্করণেও বাংলাদেশ এখন প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলায় সেই আঠার বছর বয়সের দুঃসাহস নেই। বরং আছে জরা, জীর্ণতা আর প্রৌঢ়ত্বের সাবধানী ভাবভঙ্গি। তাই তো আইসিসির নবীন সদস্যরা গত ১০ বছরে ওভারপ্রতি রান তোলার গড়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এর পেছনে অনেক কারণ আছে, তবে তামিম ইকবাল মনে করেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের কোনো চরিত্র দাঁড়ায়নি এতদিনেও।

ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই ধারাভাষ্যকার হিসেবে পুরোদমে যাত্রা শুরু করেছেন তামিম ইকবাল। এর আগে দেশে অল্প সময়ের জন্য অতিথি ধারাভাষ্যকার হিসেবে মাইক্রোফোন ধরেছিলেন। এই সিরিজে শুরু থেকেই ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় তামিম। দল করছে খারাপ, সহ-ধারাভাষ্যকারদের কথার বাণ যেমন হজম করতে হচ্ছে তেমনি নিজেও সমালোচনা করছেন এক সময়ের সতীর্থদের। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ফরচুন বরিশাল-এর অধিনায়ক ছিলেন তামিম। দেশের হয়ে ৭৮টি টি-টোয়েন্টিসহ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মিলিয়ে ২৬৩টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা তামিম মেনে নিয়েছেন, নিজেও টি-টোয়েন্টিতে ভালো ছিলেন না। ভালো নয় বাংলাদেশও, কারণ এতদিনেও বাংলাদেশ দলের কোনো চরিত্র দাঁড়ায়নি, ‘আমি নিজেও বলব না যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমি বড় কোনো খেলোয়াড় ছিলাম টি-টোয়েন্টিতে। আমার কাছে যেটা দেখে মনে হয়, বছরের পর বছর ধরে, একটা দলের একটা চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। অথবা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলছে, এই জিনিসটা খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট, কোচ সবারই জানা উচিত। এখন যদি আপনি দেখেন, ইংল্যান্ড দলের কিন্তু একটা চরিত্র আছে। আমরা সবাই জানি যে ওদের ১ নম্বর ব্যাটসম্যান থেকে শেষ ব্যাটসম্যান পর্যন্ত সবাই মারে। পাকিস্তান দলের চরিত্র অন্য রকম। ওরা যদি ১৬০-১৭০ রান করতে পারে, তারপর তাদের সেই বোলিংটা আছে এই রানটাকে রক্ষা করার। বাংলাদেশ দলের একটা চরিত্র দাঁড়ানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দলের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোন ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই। হয় আমাদের প্রতি ম্যাচে ১৮০-১৯০ রান করতে হবে ম্যাচ জেতার জন্য, অথবা আমরা ১৬০-১৬৫ রান করব নিয়মিতভাবে এরপর যেহেতু আমাদের একটা ভালো বোলিং আক্রমণ আছে, অন্তত আমরা লড়াই করব অথবা আমাদের একটা সুযোগ থাকবে। এই জিনিসটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বার্তাটা সবার কাছে যাওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তামিম আরও যোগ করেন, ‘আমরা যখনই সমালোচনা করছি, তখন সমালোচনা করছি হয় কোচদের অথবা খেলোয়াড়দের। ক্রিকেট বোর্ডেরও কিন্তু একটা দূরদৃষ্টি থাকতে হবে, বাংলাদেশ দলকে পরবর্তী ২ বছর ৩ বছর পর কোথায় দেখতে চায়। ক্রিকেট বোর্ডের যদি কোনো দূরদৃষ্টি না থাকে, শুধু কোচ আর খেলোয়াড়দেরই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে, তাহলে কোনোদিনই এটাতে সফল হবেন না। এখন আমরা ভারতকে বলি যে ভারত এটা, ভারত ওটা, ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের যদি ওই দূরদৃষ্টি না থাকত, তাদের ওই স্টেটমেন্টটা যদি আপনাদের মনে থাকে, ওরা বলেছিল বার্বাডোজে আমরা কী করব (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে), সেটা না হলেও ওরাও হয়তো এটা অর্জন করতে  পারত না। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে বিসিবির পরিকল্পনা কী, দূরদৃষ্টি কতখানি। উনারা যদি দেখেন যে আমি এই সিরিজ জিতলেই খুশি আর প্লেয়াররা দেখছে যে আমরা ২টা ম্যাচ জিতলেই খুশি, তাহলে হলো না। একদম ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত স্পষ্ট একটা বার্তা থাকতে হবে।’

টি-টোয়েন্টি সংস্করণ যখন আন্তর্জাতিক সূচিতে নিয়মিত ঠাঁই পেতে শুরু করে আর বাংলাদেশ এই সংস্করণে অংশ নিয়ে একের পর এক আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর কাছেও হারতে থাকে, তখন খেলোয়াড়রা বলতেন অনভ্যস্ততার কথা। এই সংস্করণে কম খেলার কথা। ১৮ বছর পর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবসরে যাচ্ছেন দেড়শর কাছাকাছি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে। কিন্তু সেই ক্রিকেটার হিসেবে থেকে গেছেন গড়পড়তা মানের নিচেই। তামিম নিজেই মেনে নিয়েছেন যে টি-টোয়েন্টিতে তিনি ভালোদের কাতারে নেই। সাকিব আল হাসানও বিশ্বের নানান দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেও জাতীয় দলে গড়পড়তা। খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে এসে তামিম বুঝতে পারছেন বাস্তবতা, ২২ গজে দাঁড়িয়ে যেটা বুঝতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত