আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে এ দিনটি। এ বছর “কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এখনই সময়” প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে দিনটি।
সারাবিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ পালন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। তবে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। করোনাকালে মানসিক রোগের ব্যাপকতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ ব্যক্তিই মানসিক রোগে বা যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন। এসবের যথাযথ চিকিৎসা এবং গুরুত্ব না দেয়ার ফলে দিন দিন আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে থাকেন মানুষ। অতিরিক্ত পরিশ্রম, কম পারিশ্রমিক, কর্মী ছাঁটাই, কর্মক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি, সহকর্মীদের অসহযোগিতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক অবস্থান হারানোর ভয়ে মূলত কর্মীরা বিষণ্ণতায় ভোগেন।
এসবের প্রভাব পরে মানসিক স্বাস্থ্যে। সহযোগিতামূলক কর্ম-পরিবেশ, কাজের উদ্দেশ্য ও দৃঢ়তা- এসব কাজের গতি বাড়ায়। আর তাই কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন ও নিশ্চয়তা বিধান ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও কর্মক্ষেত্রে সবার সহমর্মিতা ও সহাযোগিতার হাত প্রসারিত করা।
এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে সুস্থ কর্ম-পরিবেশ তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্ব প্রদান এবং পর্যাপ্ত বিরতি ও বিশ্রাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের নাগরিকরা।
আজ মানসিক স্বাস্থ্য দিবসটি পালন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পৃথকভাবে সভা, সেমিনার ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
