প্রধান আসামি মাদক কর্মকর্তা, রিমান্ডে ৫

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৪৯ এএম

রাজধানীর হাতিরঝিলের মহানগর প্রজেক্টের বাসার ভেতরে স্বজনদের আহাজারি। বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার পর সেই ভ্যানে করে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিমের মরদেহ। নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য যে বাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে জীবন গেল সেই বাড়ি থেকেই চিরতরে বিদায়ের আগে চোখের জলে ভাসলেন স্বজনরা।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে তামিমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ওই বাসার সামনে নিয়ে আসা হয়। তাকে শেষবার দেখার জন্য ওই বাসার নিচে গাড়ি পার্কিংয়ে অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যরা জড়ো হন। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তামিমের মরদেহ।

তামিম হত্যার ঘটনায় আবাসন প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। হাতিরঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় এ অভিযুক্তদের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করার পর সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ।

তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই জমির মালিক তিনজন। ডেভেলপার কোম্পানি এখানে নয়তলা ভবন নির্মাণ করে। এখানে ২৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেক জমির মালিককে পাঁচটি করে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা ছিল। অন্য দুই মালিকের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিলেও তাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করছে ডেভেলপার কোম্পানি। গত দেড় বছর ধরে এ নিয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোম্পানি ফ্ল্যাটগুলো বুঝিয়ে দেয়নি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ফ্ল্যাটের কাজ চলার সময় ডেভেলপার কোম্পানির লোকজন তামিমের ওপর হামলা চালায়। তামিম গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের কর্মকর্তা আবদুল লতিফ (৪৬) ওই ফ্ল্যাটের সামনে সাত-আটজন লোক নিয়ে তামিমের কাজে বাধা দেন। তামিম কথা বলতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন লতিফ। এ সময় সাদা টি-শার্ট পরা ও ফুল শার্ট পরা দুই যুবক তামিমকে ধাক্কা দিতে দিতে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যান। দুই-তিনজন তামিমকে ধরে রাখেন এবং কালো টি-শার্ট পরা একজন ফ্ল্যাটের দরজায় লাথি দিতে থাকেন। অন্যদিক থেকে আসা এক যুবক লাঠি দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ভেঙে ফেলেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পরে তামিমকে ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে।

তামিম হত্যার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মামুনকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রবিউল আলমকে। তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে এ দুজনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়।

এ ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের কর্মকর্তা আবদুল লতিফ, তার সঙ্গে যাওয়া কুরবান আলী (২৪), মাহিন (১৮), মোজাম্মেল হক কবির (৫২) ও বাঁধন (২০)।

গতকাল এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রুহুল কবির খান বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তৃতীয়পক্ষের কাছে একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছে। সেটি কেনেন মো. মামুন। মূলত এ কারণেই মামুনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। তবে সেই বিরোধে আবাসন কোম্পানিটি তার পক্ষ নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত