বেরোবিতে সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করলেন নাহিদ ইসলাম

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৫ এএম

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের এক দাবির জবাবে তিনি তার সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় অন্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় এবং কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমানকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

কিন্তু শিক্ষার্থীরা কমলেশ চন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন, তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, যার সম্পাদক আবু সাঈদ হত্যার আসামি। সেই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগেরও দোসর। এ ছাড়া ড. শফিকুর রহমানের কলাম নিয়ে আপত্তি জানান তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রাইসুল ফারিদ বলেন, ‘আপনি বলেছেন প্রথমে আমাদের কাঠামো ভাঙতে হবে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দালালি করছে, সেই কাঠামো এখনো বলবৎ আছে। স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এখানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রয়েছেন যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং সেই পরিষদের সেক্রেটারি ছিলেন মশিউর। যে কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন মশিউরের মতো কলঙ্কিত শিক্ষক (আবু সাঈদের হত্যা মামলার আসামি), আজকে সেই কমিটির সভাপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কলা অনুষদের ডিন শফিফ আশরাফ রয়েছেন, যিনি ১৩ আগস্ট একটি কলাম লিখেছেন, যেখানে একটি লাইন আছে, “আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরও পরিস্থিতি সামলানোর পর্যায়ে ছিল”। আমরা শিক্ষার্থীরা জানতে চাই, আবু সাঈদের প্রাণের বিনিময়েও এখানে কী সামলানোর কথা তিনি বুঝিয়েছেন? এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো দেখতে পাই, আমাদের সামনে যারা স্বৈরাচারী শাসকের দোসর রয়েছে, তাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটা মানতে পারি না।’

এর জবাবে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে এ বিষয়টি জানতাম না। যেহেতু আপনারা অভিযোগ করলেন, এই মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগ এবং স্বৈরাচারের দোসরকে স্মারক সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ফলে একই মঞ্চ থেকে আমাকে যে সম্মাননাটি দেওয়া হয়েছে, সেটি আমি গ্রহণ করছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো এক দিন ফ্যাসিবাদমুক্ত এই বেরোবিতে আসব এবং আপনাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণের সক্ষমতা নিয়ে দাঁড়াব। সেদিনই হয়তো প্রকৃত সম্মাননা গ্রহণ করব।’

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার কলামের শিরোনাম ছিল আবু সাঈদ যখন রাজনীতিবিদদের শিক্ষক। তারপর শুধু একটি লাইন ধরে আঙুল তোলা হচ্ছে। আমি তার (নাহিদ ইসলাম) সঙ্গে আমাকে দেওয়া সম্মাননা স্মারক সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে সারেন্ডার করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা হত্যাকা- এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তথ্য তুলে এনে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা হবে। এজন্য একটু সময় প্রয়োজন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত