টাঙ্গাইলের মধুপুর আনারসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলার আনারসের খ্যাতি দেশ জুড়ে। এখানকার উঁচু-নিচু জমি ছাড়াও বসতবাড়ির আঙিনায় আনারস চাষ হচ্ছে। এখানে ক্যালেন্ডার ও জলডুগি জাতের আনারস চাষ হলেও এখন এমডি-২ নামে একটি জাত চাষ করা হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাস আনারসের মৌসুম হলেও এখন বছর জুড়ে চাষ হচ্ছে এবং আনারস পাওয়া যাচ্ছে। মধুপুরের আনারসের খ্যাতির মূল কারণ রসে টইটম্বুর ও সুস্বাদু। প্রতিদিনই হাটে আনারস বিক্রি হলেও জলছত্র এলাকার আনারসের হাটটি প্রসিদ্ধ। আকারভেদে ২০ থেকে ৬০ টাকায় পিস বিক্রি হয়। প্রতিদিন হাটে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়।
সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বাগান থেকে তুলে বাজারে নেওয়ার পর সেগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। এবার সারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে চাষের খরচ বেড়েছে। কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে গত বছরের চেয়ে অনেক কম দামে। যার ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
প্রাকৃতিক উপায়ে যেসব চাষি আনারস চাষ করছেন তাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। কারণ স্বাভাবিকভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহারে সময়মতো ফল বড় হয় না। এ ছাড়া রঙও ঠিকভাবে আসে না। এ কারণে ক্ষেত থেকে তোলার পর ফলটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই অধিকাংশ চাষি চারা রোপণের পর ফলন দ্রুত বের করা, আকার বড় করা ও পাকানোর জন্যও রাসায়নিক প্রয়োগ করছেন। এজন্য মৌসুমের আগেই আনারস পরিপক্ব করে বাজারে বিক্রি করেন। অথচ এই ফলের স্বাদ ও গন্ধ দুটোই কম।
আনারস সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেই। ফলে চাষিরা লম্বা সময় নিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন না। সরকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিলে, চাষিরা উপকৃত হতেন। বেরীবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, ‘ দুই একর জমিতে আনারস চাষ করেছি। এ বছর আমার ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করলে ফল বড় হয় না, রঙ ঠিক থাকে না। বাজারে মেডিসিন ছাড়া আনারসের চাহিদা কম। কোনটা প্রাকৃতিক আর কোনটা রাসায়নিক দিয়ে উৎপাদিত মানুষও চেনে না। এজন্য অনেকে আকার ও রঙ ঠিক রাখতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করছেন। ভালো রঙ ও আকারে বড় আনারসের চাহিদা বাজারে বেশি। স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনে না জেনে মানুষ খাচ্ছে। আমরা ঠেকাতে পারছি না।’ কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নাম্নী বলেন, ‘ চাষিরা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার না করেন। আনারসের ৩২ থেকে ৩৬ পাতা না আসা পর্যন্ত রাসায়নিক দেওয়া যাবে না। সভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে, ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করতে হবে। নিরাপদ আনারস চাষের ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি। ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। যেমন অনেক ভোক্তাই আছেন, আনারস টকটকে হলুদ না হলে কিনতে চান না। অথচ এই ধরনের আনারস ভালো না।’
