টাকার অভাবে মিঠুর চিকিৎসা অনিশ্চিত

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০১:০৮ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে চোখ, মুখ, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগা সেই আবদুল্লাহ আল বাকী মিঠু (৩২) এখন আর দেখতে পাচ্ছেন না বাম চোখে। অভাবের সংসারে চাকরি হারিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার চিকিৎসা। এ অবস্থায় হয়তো চোখের চিকিৎসা করানোই সম্ভব হবে না তার। শরীরের বিভিন্ন অংশের গুলি বের করা গেলেও আটটি বুলেট এখনো তার চোখ, মুখ ও কপালে রয়েই গেছে। ডান চোখের পাতার ওপরে লাগা গুলিটি অপারেশন করার পরও বের করা সম্ভব হয়নি। আর বাম চোখের গুলিটি চোখের ভেতরে চলে যাওয়ায় বের করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ডাক্তার।

মিঠু জানান, বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা। তিন বোনের একমাত্র ভাই তিনি। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই তিনিই। তাই পরিবারের দায়িত্ব তার ওপর। অসুস্থতার কারণে চাকরি হারিয়ে একদিকে সংসার ও আপরদিকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বিভিন্ন মহল থেকে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও সময়ের সঙ্গে থেমে গেছে সেই হাত। চরম দুশ্চিন্তায় প্রতিটি দিন পার করছেন তিনি।

মিঠু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর এলাকার কৃষক আব্দুল খালেকের (৬৫) ছেলে। মিঠু বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে ২০১৫ সালে মেডিকেল রেডিওলজি বিভাগ থেকে পাস করে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেন। সর্বশেষ সিরাজগঞ্জের বেতিন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করার দায়িত্বে ছিলেন।

মিঠু আরও জানান, গত ৪ আগস্ট আন্দোলন চলাকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার কেজির মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ভেবে অন্য লাশের সঙ্গে তাকেও ফেলে রাখা হয়। চেতনা ফিরলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে নার্স ও ডাক্তাররা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতরের গুলিগুলো বের করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বলেন। পরের দিন ৫ আগস্ট ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার এক চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু তাতেও চোখের কোনো উন্নতি হয়নি। এরপর বেশ কয়েকবার ঢাকায় ডাক্তার দেখালেও কোনোভাবেই গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। এখন তিনি তার বাম চোখে একদম দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয়ের চিন্তায় স্থবিরতা নেমে এসেছে তার জীবনে। সংসারের এটা ওটা বিক্রি করে কোনোরকমে দিন পার করছেন তারা।

মিঠুর বাবা আব্দুল খালেক জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার ছেলের চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লেগেছিল। বাম চোখে এখন দেখতেই পারছে না। ২ মাস হচ্ছে ছেলের চাকরি না থাকায় তাদের সংসারে কোনো আয় রোজগার নেই। তিনি ডায়াবেটিক ও হার্টের রোগী। তার হার্টে রিং পরানো আছে। তাই কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত অনেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করলেও আমার ছেলেটার বেলায় তা জোটেনি।’

মিঠুর মা জুলেখা খাতুন বলেন, মিঠুর পাঠানো রোজগারেই তাদের সংসার ও তার বাবার ওষুধ কেনা হতো। সে টাকা পাঠালেই আমাদের চুলা জ্বলত। এখন সংসারের এটা ওটা বিক্রি করেই ছেলের চিকিৎসা ও সংসার চলছে। এ অবস্থায় ছেলের সাহায্যের জন্য আবেদন জানান তিনি।

বাগাতিপাড়ার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মুনাইম ইসলাম রুমি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট যে কমিটি হয়েছে সেই কমিটির কাছে প্রায় ৪ সপ্তাহ আগে মিঠুর তথ্য পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত