গ্যাসের চাপ নেই। টিম টিম করে জ্বলছে চুলা। তাতে ভাত-তরকারি রান্না করা তো দূরের কথা সামান্য পানি গরম করতেই পেরিয়ে যাচ্ছে ঘণ্টাখানেক সময়। অগত্যা হোটেলের খাবারে ভরসা এখন ঘরে ঘরে। আবার অনেকে মাটির চুলায় করছেন রান্না। কারো কারো ঘরে তিতাস গ্যাসের অভাব পূরণ হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডারে। রাজধানীর কাছের মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় গ্যাস সংকটের কারণে ঘরে ঘরে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা মিলেছে।
সদর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও মিরকাদিম পৌরসভা জুড়ে গ্যাস সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহের কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে এখানকার প্রায় ১৪ হাজার পরিবার।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের মালপাড়া, মানিকপুর, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, দেওভোগ, খালইষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অনেকের ঘরেই গ্যাস নেই। মাত্র কয়েকটি পরিবার গ্যাসের চুলায় টিম টিম আগুনে রান্না সারছেন। অনেক পরিবার মাটির চুলাতে আবার কেউ কেউ এলপিজির সিলিন্ডারে রান্না করছেন। এসব পরিবারের অনেকেই সকালের খাবার খেয়েছেন হোটেল থেকে এনে।
এদিকে, বাড়িতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকা সত্বেও শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার নাসিমা বেগমকে (৩৫) দেখা গেছে রান্না ঘরের বাইরে মাটির চুলাতে রান্না করতে। তিনি জানান, সকাল দুপুর কিংবা রাত কোনো বেলাতেই গ্যাস মিলছে না কপালে। মাঝে মধ্যে গ্যাস এলেও তাতে চুলা টিমটিম করে জ্বলে। এতে করে রান্না করা যায় না। খাবার রান্না করা এখন তাদের কাছে কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শহরের দেওভোগ এলাকার লিপি বেগমের (৫০) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ফজরের সময় উঠে গ্যাসের চুলায় গরম পানি বসিয়ে নামাজে যাই। এতে দেখি পানি ঠিকমত গরম হয় নাই। পরিবারে তিনজন ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করে। ওদের ঠিকমত নাস্তা বানিয়ে দিতে পারি না। আর বিকেলেও ঠিকমতো গ্যাস থাকে না। রাতে বাচ্চাদের খাবার দিতে ১২টা বেজে যায়।
শহরের মালপাড়া এলাকার গৃহবধু শামীমা নাসরিন বেলী (৪৬) বলেন, দিনরাত মিলে ২৪ ঘণ্টাই গ্যাস সংকটে ভুগছি। গ্যাসের চাপ এতোটাই কম যে, চুলা টিমটিম করে জ্বলে। তাতে রান্না করা বেশ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ দিনদিন কমছে। গ্যাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেহেতু তিতাস কর্তৃপক্ষ বাসাবাড়িতে ঠিকমত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, সেহেতু আবাসিক লাইন গুলোর বিল নেওয়া বন্ধ রাখার দাবি জানাই।
মুন্সীগঞ্জ তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ব্যবস্থাপক শাহ্ এমদাদ হোসেন জানান, মুন্সীগঞ্জ সদরে আবাসিক গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন ২৩ হাজার ৯৫৭ জন। এখানে ৭১ লাখ ঘর মিটার গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। অথচ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩৪ লাখ ঘন মিটার গ্যাস। তিনি বলেন, আমাদের চাহিদার অনুযায়ী অর্ধেকেরও কম পরিমাণ সরবরাহ পাই। গ্রাহকরা গ্যাস ব্যবহার না করে টাকা দিচ্ছে এ বিষয়টা আমাদের কাছে কষ্টদায়ক।
নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরে পোশাক কারখানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক
বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান, ভোক্তা-দোকানিদের চোর-পুলিশ খেলা
আতঙ্কে দেশত্যাগ ইসরায়েলিদের, ৭ মাসে দেশ ছেড়েছে ৪০ হাজারের বেশি
ভারতীয় তিন ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি, একটির দিল্লিতে জরুরী অবতরণ
গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেপ্তার করা যাবে না 