পূজামণ্ডপে সংগীত বিতর্ক

দুইপক্ষের আইনজীবীদের বাগবিতণ্ডায় এজলাস থেকে নেমে গেলেন বিচারক

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২১ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের জেএমসেন হলে পূজামণ্ডপের স্টেজে সংগীত বিতর্কের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বাগবিতণ্ডায় বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক। আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্র জানায়, আজ দুপুরে সংগীত-বিতর্কের মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানির সময় বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান বাদী এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। একপর্যায়ে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক মো. অলি উল্লাহ। এর আগে তিনি দুই আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সদস্য শহীদুল করিম ও নুরুল ইসলাম। দুজনই মাদ্রাসার শিক্ষক।

নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন বাতিলের জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবেদন করেন। একই সঙ্গে জামিনের আবেদনও করা হয়। অপর দিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন। ওই সময় দুই পক্ষ তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে বিচারক রিমান্ড আবেদন বাতিলের আদেশ দিয়ে এজলাস থেকে নেমে যান।’

শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী শামসুল আলম আদালতকে বলেন, আসামিরা পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। মঞ্চে ওঠার আগে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের দাবি জানিয়ে আদালতকে বলেন, আসামিরা যে গান করেছেন, তাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

পূজা মণ্ডপের মঞ্চে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে সনাতন ধর্মাম্বলীদের অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগে গত শুক্রবার নগরের কোতোয়ালি থানায় চট্টগ্রাম মহানগর পূজা কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত বিকাশ মহাজন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে কমিটির যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কার) সজল দত্ত, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সদস্য শহীদুল করিম, নুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ইকবাল, মো. রনি, গোলাম মোস্তফা, মো. মামুনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত