বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে থাকা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। একই সঙ্গে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এ সংগঠনের নেতারা। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা সব মামলা রাজনৈতিক দাবি করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট রেজিমের প্রধান পলাতক শেখ হাসিনার নির্দেশে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, এসব রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অবিলম্বে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনজীবী সমাজ আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনাসহ অন্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি, দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দেশে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তন তথা নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যে দুই মাসের অধিক মেয়াদ পূর্ণ করেছে। কিন্তু জনগণ অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশ ধীরগতি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে। আইন বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এই বিভাগের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, এ বিভাগটি কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে যথাযথভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।’
কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে আইন বিভাগ যথাযথভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বলে মনে করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। তাই তাদের দাবি, আইন বিভাগ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘উদ্বেগের সঙ্গে বলেছি, কেন আজকে পিপি-জিপি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা যেটি বুঝতে পেরেছি, আইন বিভাগের ওপর কোনো একটা অদৃশ্য শক্তি হস্তক্ষেপ করছে। সেটি আমরা এই মুহূর্তে আপনাদের (সাংবাদিক) বলতে চাই না। এটি বুঝে নিতে হবে, কারা এবং কোন কোন ব্যক্তি এখানে হস্তক্ষেপ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামালের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মো. রুহুল কুদ্দুস, মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব, গাজী তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকার আইনজীবীদের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সংস্কারের জন্য একটি কমিশন করা হলেও বিচারপতি শাহ আবু নাঈমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সিনিয়র আইনজীবীসহ বিচার বিভাগের অংশীজনদের মতামত না দিয়েই যেসব সদস্যকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, অচিরেই এ বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘সেবাদাস ও দোসররা’ এখনো ক্রিয়াশীল মন্তব্য করে জয়নুল আবেদীন বলেন, দুঃখজনকভাবে তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন। আর তা থেকে আদালত তথা বিচার বিভাগও মুক্ত নয়। এমনকি বিচার বিভাগের প্রায় প্রতিটি স্তরেই তারা সক্রিয়। বর্তমান সময়ে আইন-আদালত তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বদলি, পদায়ন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতি দেশের মানুষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছেন, যা অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফ্যাসিস্টদের দোসরদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্র-জনতার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বিচার বিভাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের দোসরদের সরাতে হবে। বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সরকারি কৌঁসুলিদের নিয়োগ বাতিল করে অতি দ্রুত সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দিয়ে ছাত্র-জনতা গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
