ইনিংসের পর ইনিংস ব্যর্থতার জেরে পাকিস্তান টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন বাবর আজম। অবশ্য বলা হয়েছে বাদ নয় বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বাবরকে। যেটাই হোক তার জায়গায় টেস্ট অভিষেক হয় কামরান গুলামের। আর শুরুটাই করলেন তিনি সেঞ্চুরি দিয়ে।
মুলতানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন টস জয়ী পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে চার নম্বরে খেলতে নামেন ২৯ বছর বয়সী কামরান, যে জায়গায়টা এতদিন সাধারণত বাবর আজমই খেলতেন। পাকিস্তানের যখন ১৯ রানে ২ উইকেট, সেই অবস্থা থেকে ওপেনার সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ১৪৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ডানহাতি কামরান। ৭৭ রানে সাইম এবং এরপর সৌদ শাকিল মাত্র ৪ রানে বিদায় নিলেও, সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান কামরান। চা বিরতির পর ইংল্যান্ডের অনিয়মিত স্পিনার জো রুটকে সøগ সুইপে লং অন দিয়ে চার মেরে ১৯২ বলে সেঞ্চুরি পেয়ে যান খাইবার পাখতুনখাওয়ার ছেলে কামরান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসে কামরান করেছেন ১১৮ রান। ৭৯ রানে একবার ক্যাচ তুলেও বেন ডাকেটের ব্যর্থতায় বেঁচে যাওয়া কামরান ২২৪ বলের এই ইনিংসে মেরেছেন ১১টি চার ও ১টি ছক্কা।
টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি করা ১৩তম ব্যাটসম্যান কামরান গুলাম। এর আগে খালিদ ইবাদুল্লাহ (১৯৬৪), জাভেদ মিয়াঁদাদ (১৯৭৬), সেলিম মালিক (১৯৮২), মোহাম্মদ ওয়াসিম (১৯৯৬), আলি নাকভি (১৯৯৭), আজহার মাহমুদ (১৯৯৭), ইউনিস খান (২০০০), তওফিক উমর (২০০১), ইয়াসির হামিদ (২০০৩), ফাওয়াদ আলম (২০০৯), উমর আকমল (২০০৯), আবিদ আলি (২০১৯) অভিষেকেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন। কামরান গুলামের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ২০১৩ সালের মার্চে। সাড়ে ১১ বছর পর সেই কামরান টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে মাতিয়ে দিয়েছেন। টেস্ট ইতিহাসের ১১৪তম ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি পেলেন কামরান গুলাম। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রান করেও ইনিংস ব্যবধানে হারা পাকিস্তান দিনটা শেষ করেছে ৫ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৭ ও আগা সালমান ৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
প্রথম টেস্ট যে উইকেটে খেলা হয়েছিল, দ্বিতীয় টেস্টেও খেলা হয়েছে সেই উইকেটেই। ব্যবহৃত উইকেট, তাই এই টেস্ট পাকিস্তান খেলতে নেমেছে এক পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে। প্রথম দিনে ৫৭ ওভার বোলিং করেছেন ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। আপাত স্পিন-বান্ধব সেই উইকেটে ইংল্যান্ড স্পিনার নিয়ে আসে ষষ্ঠ ওভারেই। প্রথম ওভারে ৫ রান দিলেও ইংলিশ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচ পরের ওভারেই বোল্ড করে দেন আবদুল্লাহ শফিককে। পরের ওভারেও উইকেট পান লিচ, এবার শিকার পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাজে শট খেলে শর্ট মিড উইকেটে জ্যাক ক্রলির হাতে ক্যাচ দেন মাসুদ। এরপর কামরান আর সাইমে লম্বা সুসময় পার করে পাকিস্তান। ১৬০ বলে ৭৭ রান করে সাইমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌদ শাকিল। ব্রাইডন কার্সের বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৪ রান। দিনটা রিজওয়ানকে নিয়ে প্রায় পারই করে দিয়েছিলেন কামরান। ৬০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৭তম সেঞ্চুরি পাওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যান ফিরেছেন ৮৫তম ওভারে অফ স্পিনার শোয়েব বশিরের বলে বোল্ড হয়ে।
