সোয়া কোটিতেই চালু মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১১ এএম

মিরপুর-১০ নম্বরের মেট্রো স্টেশন চালু করতে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মেট্রোর উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ ও বিজয় সরণি স্টেশন থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থাপনের পর স্থানীয় বাজার থেকে আরও বিভিন্ন টুকিটাকি যন্ত্রাংশ কিনতে এই খরচ হয়। তবে ওইসব স্টেশন থেকে আনা যন্ত্রাংশগুলো দেশের বাইরে থেকে আনার পর আবার স্থাপন করার জন্য আরও ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সব মিলে খরচ হবে ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন চালুর পর সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। টানা দুই মাস ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর মেট্রোরেলের এই স্টেশন চালু হলো।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলকালে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ নম্বরসহ মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন মেরামতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার মধ্যে গত ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেল ৫টায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। এর পরদিন মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়।

গত ২০ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেট্রোরেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি মেরামত করে আবার চালু করতে এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে।

আর ২৭ জুলাই তখনকার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত দুটি স্টেশন মেরামতের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা এক বছরেও যন্ত্রপাতি এনে সচল করা সম্ভব হবে না।’

যদিও ২ মাস ২৭ দিনের মাথায় মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন চালু হয়েছে। কাজটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, তা জানিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোকে সহায়তা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেখানে দেশের বাইরে মেট্রোরেলে কাজ করেন এমন একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সবার সহায়তায় এটা সম্ভব হয়েছে।’

তৎকালীন সরকারের সময় মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনের মেরামতের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তবে কাজীপাড়া স্টেশন মেরামতে ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশন মেরামতে খরচ হচ্ছে পৌনে ১৯ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এখানে উন্নয়নের বিষয়ে শিক্ষা আছে। বলা হচ্ছে, এ বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ। সবাই হতাশ। আগে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতো। হিসাব করলে বুঝতে পারবেন, এখানে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় করলে আর এক বছর ধরে কাজ করলে জিডিপি বাড়ত। কিন্তু প্রকৃত উন্নয়ন হতো না। এখন যে প্রবৃদ্ধির হার, সেগুলো হবে প্রকৃত উন্নয়ন। শুধু অঙ্কের হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সর্বোচ্চ যেখানে ১৮ কোটি টাকা খরচ করা হবে, বাকি টাকা যদি বিদেশে যেত, তখন কী উন্নয়ন হতো?’

দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল অভিযোগ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। মেট্রোরই উদাহরণ বলি, যিনি এমডি হবেন, তাকে সরকারের সাবেক সচিব হতে হবে। দেশ কি শুধুই সাবেক সচিবদের, নাকি দেশটা সবার। এই নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। এখন মেট্রোর এমডি হতে সাবেক সচিব হওয়ার প্রয়োজন নেই। যোগ্য ব্যক্তি হলেই হবে।’

মেট্রো স্টেশন বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তা জানতে চাইলে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এগুলো ছাত্ররা করেনি, অন্য দুষ্কৃতকারীরা করেছে। কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সেগুলো পুলিশপ্রধানকে দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত