ঘরের মাঠে ভারত সবসময় অপ্রতিরোধ্য। ২০১৬ সালে তারা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক। সঙ্গে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। কিন্তু সেমিফাইনালে তাদেরকে কাঁদিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনাল হয়েছিল আরও টানটান উত্তেজন। ইংল্যান্ডের বোলার বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারে ২৪ রান নিয়ে তাক লাগিয়ে দেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। ক্যারিবিয়ানরা সেদিন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল। সেই সময় তাদের কোচ ছিলেন ফিল সিমন্স।
সেই সিমন্স এবার এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হয়ে। চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বরখাস্তের পর তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আপাতত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন ৬১ বছর বয়সী ক্যারিবিয়ান এই কোচ। তার আগমন হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর আগে ২০১৭ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে তৎকালিন বোর্ড তাকে নিয়োগ দেয়নি।
সিমন্সের কোচিং ক্যারিয়ার বেশ সফল। ২০০১ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোচ হয়ে তিনি তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। জাতীয় দলের হয়ে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের কোচ হয়ে। ঐ সময়টা ভালো না গেলেও ২০০৬ সালে তার অধীনে বাংলাদেশকে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছিল রোডেশিয়ানরা। পরে ২০০৭ সালে তিনি আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হন। দীর্ঘ ৮ বছর আইরিশরা তার অধীনে খেলেছে। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বছর তা ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ খেলতে যান। সেবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় আইরিশরা। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২৯ রানের লক্ষ্য ও টপকে যায় আইরিশরা। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর তিনি আয়াল্যান্ড ছাড়েন।
ঐ বছরই তিনি দায়িত্ব নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের হয়ে। পরের বছর দলকে জেতান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঐ বছর আবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও জেতে ক্যারিবিয়ানরা। ২০১৮ সালে তিনি দায়িত্ব নেন আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের। পরের বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষেও তিনি পদত্যাগ করেন। তারপর আবার নিজ দেশের প্রধান কোচ হন। তবে ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরাডুবি হলে তিনি এখান থেকেও পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে তিনি ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সিপিএলে এই দলটি সবচেয়ে বেশি সফল। চার বার তারা শিরোপা জিতেছে। তিনি প্রথম দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। পরের বছরেই শাহরুখ খানের দলটি জেতে শিরোপা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ হিসেবে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা ছিল তার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সেই সময় বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
সিমন্সের কৌশলগত শক্তি তার মানসিক দৃঢ়তা এবং দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতায়। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করতে পছন্দ করেন এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী দল তৈরি করতে দক্ষ। তার অধীনে দলগুলো সাধারণত শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ এবং ফিল্ডিং দক্ষতা প্রদর্শন করে। তিনি ক্রিকেটারদের মুক্তভাবে খেলতে দেন। তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সহায়তা করেন, যা বড় ম্যাচের পরিস্থিতিতে দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়।
একজন কঠোর এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ কোচ হিসেবে পরিচিত হলেও ক্রিকেটাদের মানসিকভাবে তৈরি করার জন্যও বিখ্যাত। তার কোচিং স্টাইলের মূল দিক হচ্ছে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা, যেখানে তিনি কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার ওপর জোর দেন। তবে তিনি খেলোয়াড়দের মানসিক সমর্থন দিতে এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে পছন্দ করেন, যা তাদের ব্যক্তিগতভাবে এবং পেশাগতভাবে উন্নতি করতে সাহায্য করে। যখন সিমন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচ ছিলেন, তখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও আত্মনিবেদন আশা করতেন। তবে তিনি কঠোর হলেও, তিনি খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা এবং তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ দেন, বিশেষ করে চাপের মুহূর্তগুলোতে। তার কোচিং স্টাইল ‘কঠোর কিন্তু ন্যায়সঙ্গত’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমের ওপর জোর দেন।
সিমন্সের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একটি নতুন দিক পেতে পারে, বিশেষ করে মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে। তার অভিজ্ঞতা এবং কৌশল বাংলাদেশের তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য তার কৌশল এবং চাপের মধ্যে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করার দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা আশাবাদী যে ফিল সিমন্স তাদের প্রিয় দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, বিশেষ করে ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত তার নেতৃত্বে।
বিদায়ী টেস্ট খেলতে দেশে ফিরছেন সাকিব
মেসি নিজেও জানেন না কোথায় তার শেষ
হ্যাটট্রিকে রোনালদোকে ছুঁলেন মেসি
৪২ বছরের প্রথা ভেঙে অ্যাশেজের সূচি ঘোষণা