ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০১ এএম

গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে ইসরায়েলকে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়সীমার মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ প্রবেশ বৃদ্ধি কিংবা বাধা সৃষ্টি করলে তেল আবিবে পাঠানো সামরিক সহযোগিতা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি দুদেশের কেউই। তবে গত মঙ্গলবার চিঠির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে সবচেয়ে কড়া ভাষায় লেখা সতর্কবার্তা। চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজায় অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গত মাসে ইসরায়েল উত্তর ও দক্ষিণ গাজার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মানবিক ত্রাণ সরবরাহ ঢুকতে দেয়নি কিংবা বাধা দিয়েছে। তাতে একদিকে যেমন মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে মৌলিক ও জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

মিলার আরও বলেন, গাজায় এখন যে পরিমাণে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর আগেও এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের পর ত্রাণের প্রবেশাধিকার বাড়ানো হয়েছিল বলে জানান মিলার। চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো চিঠিটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তার দেশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা উত্তর গাজায় হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মানবিক ত্রাণ প্রবেশে তারা কোনো বাধা দিচ্ছে না। তবে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণবাহী গাড়ি অবরুদ্ধ গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িতে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। গত সোমবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ৩০টি ট্রাকভর্তি ত্রাণ ইরেজ ক্রসিং দিয়ে উত্তর গাজায় ঢুকেছে। তবে এই ত্রাণ ছিল দুই সপ্তাহ পর গাজায় ঢোকা প্রথম ত্রাণের বহর। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই দুই সপ্তাহে উত্তর গাজায় কোনো ত্রাণ সরবরাহ করতে দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ইসরায়েলকে আলটিমেটাম দিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতি নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ক্রমাগত সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সহায়তা গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলায় ব্যবহার করছে তেল আবিব। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এলেও, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এদিকে, গাজার যুদ্ধ বিস্তৃত হয়েছে লেবাননে। দেশটিতে গত মাস থেকে চালানো বিমান হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির হার প্রতিদিনই বাড়ছে। লেবাননে বেসামরিকদের জানমালের ক্ষতি কমাতে ও আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা থেকে হামলার ব্যাপকতা নিয়ে ইসরায়েলের কাছে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই গতকাল বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে তেল আবিব। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অস্ত্র ভা-ার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহও। গত মঙ্গলবার লেবানন থেকে ইসরায়েলের ভূখ-ে ৯০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি রকেট ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় আঘাত হেনেছে বলে জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর দেয়নি তেল আবিব। অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে আরও অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই আগ্রাসনের কারণে নেতানিয়াহুকে ‘শয়তানের পুত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত