পঞ্চগড় পৌরসভার নব-নির্মিত সুপার মার্কেটের ভেতরে রাখা হয়েছে নামাজ ঘর। মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পৌরসভার কাছে তা হস্তান্তরও করেছে। দোকাট বরাদ্দ শেষ হলে চালু হবে মার্কেটটি। এরই মধ্যে হঠাৎ মার্কেটের নামাজ ঘরের এক টনের তিনটি এসি আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এসিগুলো চুরি হয়নি বরং তা খুলে নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেনের অফিস কক্ষে লাগানো হয়েছে। গরমে স্বস্তি পেতে তারা নামাজ ঘরের এসি নিয়ে লাগিয়েছেন নিজেদের অফিস কক্ষে। কর্মকর্তাদের এমন কা-ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
পৌরসভার প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে পৌর কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে পৌর সুপার মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তৃতীয় নগর পরিচালন ও উন্নতীকরণ প্রকল্পের আওতায় ছয়তলাবিশিষ্ট এই সুপার মার্কেটের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫০ কোটি টাকা। তবে শুরুতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডসহ দোতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। মার্কেটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রাখা হয় নামাজের স্থান। সেখানে তিনটি এসিও লাগানো হয়। কিন্তু চালুর আগেই এসি খুলে কর্মকর্তারা তাদের অফিসে স্থাপন করেন।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, ‘এভাবেই ছোট ছোট অনিয়ম থেকে বড় অনিয়ম গড়ে ওঠে। নামাজ ঘরের এসি কোনো মতেই কর্মকর্তারা তাদের কক্ষে নিতে পারেন না।’
পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবার সঙ্গে কথা বলেই এসিগুলো খুলে নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে লাগানো হয়েছে।’ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে বলেন, ‘আমার অফিসের এসিটি আমি আসার আগেই লাগানো হয়েছে। কোথা থেকে আনা হয়েছে আমি জানি না।’
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, ‘সুপার মার্কেটটি এখনো চালু হয়নি। তাই চুরি ও নষ্ট হওয়ার ভয়ে এসিগুলো খুলে আমাদের অফিসে লাগিয়েছি। মার্কেট চালু হলেই নামাজের ঘরে স্থাপন করে দেওয়া হবে।’
