সন্ধ্যা হলেই মহাসড়কে মহাবিপদ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০১ এএম

ক্যাম্পাসে ফেরার পথে গত ১২ অক্টোবর রাতে ছিনতাই ও হামলার শিকার হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল হোসেন। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগেই মহাসড়কের অন্য পাশ থেকে তিনজন ব্যক্তি অস্ত্র হাতে পথরোধ করে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন ও ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় তার কোমরের ডানপাশে ছুরি দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত রাসেল এখনো সভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাসেলের মতো অনেকেই মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনার শিকার হন জাবির পাশর্^বর্তী বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) থেকে বিশমাইল এলাকার মধ্যবর্তী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। সন্ধ্যা হলেই ছিনতাইকারীসহ দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় ওই এলাকায়।

দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে ওই এলাকায় চলাচলকারীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ দামি জিনিসপত্র খোয়ানো এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হওয়া এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও খুব স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে সেখানে।

এ এলাকায় গত দুই বছরে অর্ধশতাধিক ছিনতাই ও গুপ্ত হামলা সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছে এবং একজন নিহত হয়েছেন। ছিনতাই ও হামলার শিকার অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। এমতাবস্থায় ওই পথে চলাচলকারী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব এবং ওই এলাকায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতায় ঘাটতির কারণে দুর্বৃত্তদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকার মহাসড়কে এই ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এসব ঘটনায় স্থানীয় আশুলিয়া থানা, সাভার মডেল থানা বা সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করলেও ফল পাওয়া যায় না।

দুষ্কৃতকারীদের দমনেও তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার তাগিদ দিলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি প্রশাসন।

অবশ্য সম্প্রতি রাসেল হোসেনের সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত ওই ঘটনার পরের দিন ১৩ অক্টোবর ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন ফটকে অতিরিক্ত ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আনসার সদস্যরা পালাক্রমে দায়িত্বপালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার-সংক্রান্ত পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে দ্রত ওই এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হবে।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সরকারিভাবে অনুমোদন হলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শুরু হতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ওই এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোর জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত