সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলোয় পড়ছিল শিক্ষার্থী আদিম-সাখি ও সাফিয়া। আদিম ও সাখি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, আর সাফিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে। এমন সময় হঠাৎ চলে যায় বিদ্যুৎ। থমকে যায় ওদের পড়ার গতি।
এমন সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের দাদা মোখলেসুর রহমান বলেন, ওদের (নাতি-নাতনিদের) কুপিবাতি জ্বালিয়ে দাও। কুপিতে জ্বালানি ভরে নিয়ে আসেন দাদি সালেমা খাতুন। আবারও শুরু হয় পড়া। ফের চলে আসে বিদ্যুৎ। আবার নিভিয়ে দেওয়া হয় কুপিবাতি। ঘটনাটি গতকাল বুধবারের।
এক সময় আদিম-সাখিদের মতো অনেক শিশু বেড়ে উঠত কুপিবাতির আলোয় পড়াশোনা করে। কিন্তু প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুপিবাতি। গ্রাম ও শহরের অধিকাংশ শিশুদের পরিচয় নেই কুপিবাতির সাথে। পল্লী বিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ ও আইপিএসের যুগে গ্রামীণ ঐতিহ্য কুপিবাতি এখন শুধুই স্মৃতি।
আদিম-সাখিদের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে। তাদের দাদা ষাটোর্ধ মোখলেসুর রহমান বলেন, আগে তো বিদ্যুৎ ছিল না। কুপিবাতি জ্বালিয়ে রাতে গৃহস্থালির কাজ, রাস্তায় চলাচল করতে হত। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনাও করত। কিন্তু বিদ্যুৎ আসার পর কুপিবাতির কদর কমে গেছে। তবে আমাদের ঘরে এখনও বিদ্যুৎ চলে গেলে কুপিবাতি ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, আগে প্রতি বাড়িতেই ছিল বিশেষ ধরনের কাঁচ ও প্লাস্টিকের বোতল। সেই বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাঁশের খুঁটিতে। পরবর্তীতে বাজারে আসে বিভিন্ন ডিজাইনের কুপিবাতি।
একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সে সময় কুপিবাতিগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইন ও নানান রঙের। এগুলো তৈরি হত কাঁচ, মাটি, লোহা আর পিতল দিয়ে। গ্রামবাংলার মানুষ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কুপিবাতি ব্যবহার করত। বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কুপি পাওয়া যেত— বড় ও ছোট। বেশি আলোর প্রয়োজনে কুপিবাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরি গাছা অথবা স্ট্যান্ডের ওপর রাখা হত। এই গাছা অথবা স্ট্যান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের।
গ্রামের বয়স্করা জানাচ্ছেন, এমন সময় আসবে যখন ছেলেমেয়েদের কুপিবাতি চেনাতে জাদুঘরে নিয়ে যেতে হবে। তবে এখনও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কিছু বাড়িতে কুপিবাতির ব্যবহার চলমান। যদিও আগের মতো প্রতিটি বাড়িতে এখন আর কুপিবাতির ব্যবহার নেই।
টাঙ্গাইলে তিনটা থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ
আপনাকে ভোট দিয়েছি, আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন!