৪৩ থেকে ৪৬ বিসিএস বাতিলের দাবি বিএনপির

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৪ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ৪৩তম বিসিএসের ২ হাজার ৬৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া বাতিলেরও দাবি জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব দাবি জানান।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী পতিত আওয়ামী লীগের অনুগত সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সুপারিশে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা এই বিসিএসগুলোয় স্থান পেয়েছে।

৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের সময় আবেদনকৃত ৪৪তম বিসিএসের যে ৯ হাজার জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল, তার মধ্যে তিন হাজার জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর ৪৫তম বিসিএসের লিখিত উত্তরপত্রের মূল্যায়ন প্রায় শেষপর্যায়ে। অন্যদিকে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তিন মাস আগে। সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যে এই তিনটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো পুরোপুরি বাতিল করা হোক।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অতীতে ২৭তম বিসিএস একটা নজির রয়েছে। সেটা ২০০৭ সালে যে ২৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয়েছিল। পরে আবার মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। আমরা ওই একই প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য যাতে জাস্টিস এনসিউর হয়, সেটা প্রেসক্রাইভ করেছি। ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছি। আমরা আবেদনকারীদের আবেদন করতে বলছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসির সংস্কার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, পিএসসির সংস্কারকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে সব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত, যাতে চাকরিপ্রার্থীরা পরে পিএসসির সুফল পান এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতির আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি, আধা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিসহ প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নতুন চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আমরা মনে করি, এসব পদে যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের পাশাপাশি আবেদনের সময়সীমা বাগিয়ে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হোক। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করার কারণে এ সুযোগ চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতাকে আরও উন্মুক্ত করবে এবং যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত