রঙবেরঙের ওড়না

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৩৩ পিএম

বাঙালি মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে সালোয়ার-কামিজ একটি অনন্য স্থানের দাবিদার। নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনে এ পোশাকটি একদিকে যেমন সহজেই পরিধানযোগ্য, অন্যদিকে তেমনি দৈনন্দিন কাজকর্মের বেলায়ও আরামদায়ক। আর প্রতিদিনের এ পোশাকটির মধ্যেও আপনি আনতে পারেন যথেষ্ট বৈচিত্র্য। এ কাজটি সহজেই করা যায় শুধু নিজের ওড়নাটিতে কিছুটা নতুনত্ব আর ভিন্নতার ছোঁয়া এনে।

ওড়নার কাপড়ের ভিন্নতা : একটা সময় ওড়নার ব্যাপারটা সবার কাছে খুব একটা গুরুত্ব পেত না। তখন পরনের কামিজটি অতি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও ওড়নাটি হতো খুবই সাদামাটা প্রকৃতির। একসময় জর্জেট, শিফন, হাফ জর্জেট ও সুতির ওড়নাই বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন দেশি কাপড়ের তৈরি ওড়নার কদরই বেশি। মসলিন, সিল্ক, হাফসিল্ক, এন্ডি কাপড়, তাঁতের কাপড়, সিল্কি কটন, খদ্দর সবকিছুই এখন ওড়নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নন্দনকুটিরের রুপসা আমিন বলেন, ‘পরনের কামিজ-সালোয়ার এবং দামের ওপর ভিত্তি করে ওড়নার মধ্যেও তারতম্য দেখা যায়। সাধারণ কামিজের সঙ্গে যেমন সুতি কিংবা তাঁতের ওড়নাই বেশি চলে, অন্যদিকে তেমনি জাঁকজমকপূর্ণ কোনো ড্রেসের সঙ্গে মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, জয়শ্রী সিল্ক ও এন্ডি কাপড়ের ওড়নাই বেশি উপযুক্ত। মসলিনের সঙ্গে কখনো আবার এন্ডি কাপড় মিক্সও থাকতে পারে। দামের দিক থেকেও সুতি কিংবা তাঁতের ওড়না মোটামুটি সস্তা। আবার মসলিন, রাজশাহী সিল্ক কিংবা এন্ডি কাপড়ের ওড়না সে তুলনায় যথেষ্ট দামি। এখনকার টিনএজাররা আবার স্কার্ফ টাইপের ওড়নাও পরে থাকে। এগুলো মূলত ফতুয়া কিংবা শার্টের সঙ্গে পরার জন্যই বেশি উপযোগী। এ ছাড়া কিছু ওড়না আলাদা করেও আমাদের শোরুমে বিক্রি হয়। রঙ, কারুকাজ কিংবা গুণগতমানের দিক থেকেও এগুলো যথেষ্ট মানসম্মত।’

অঞ্জনসের স্বত্বাধিকারী শাহিন মাহমুদ জানান, ‘ওড়নার উপকরণ হিসেবে এখন মসলিন কাপড়ের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া হাফসিল্ক কাপড়ের ওড়নার চলও যথেষ্ট। মসলিনের ওড়নার মধ্যেও আবার রয়েছে দুটো ভাগ কম কাজ ও বেশি কাজ। এ ছাড়াও নরসিংদীর তাঁত ও সিল্কি কটন, কুমিল্লার চান্দিনার খদ্দর কাপড়, টাঙ্গাইলের কটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধুপিয়ান সিল্ক, মসলিন, জয়শ্রী সিল্ক সবকিছুই ওড়নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও হাতে তৈরি সুতি কাপড়ের রঙ সময়ের সঙ্গে অল্প করে ম্লান হতে থাকে, তবে মসলিন কিংবা হাফসিল্কের কাপড়ের উজ্জ্বলতা যথেষ্ট পরিমাণেই থাকে।’

ডিজাইনেও আছে বৈচিত্র্য : শুধু কাপড়ই নয়, ডিজাইনের দিক থেকেও ওড়নার মধ্যে দেখা যায় হরেক রকম বিন্যাস। ওড়নায় কেমন ডিজাইন দেখা যায়, সে প্রসঙ্গে ডিজাইনার লুনা রশিদ বলেন, ‘আমরা সাধারণত দুভাবে ওড়না ডিজাইন করে থাকি। কখনো কামিজ-সালোয়ার এবং ওড়না একই সঙ্গে ডিজাইন করা হয়। আবার কখনো শুধু ওড়নাটি আগে ডিজাইন করে পরে অন্যগুলো করা হয়। নরসিংদীর তাঁত ও সিল্কি কটনের ওড়নার মধ্যে জরির পাড় ব্যবহার করা হয়। বুননের দিক থেকেও এ ওড়নাটির রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। টাঙ্গাইলের সুতি ওড়নায় বুননের পাশাপাশি বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহার করে আনা হয় ভিন্নতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধুপিয়ান সিল্কের তৈরি ওড়নার পাড় ও আঁচলের দিকটা একটু ভিন্নভাবে বানানো হয়। আবার অনেক ওড়নায় মেশিন এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ, কাঁথাস্টিচ, ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট প্রভৃতির মধ্য দিয়ে আনা হয় ব্যাপকতা।’

কোথায় পাবেন এবং কেমন দাম : ফ্যাশন হাউজগুলোতে প্রধানত সালোয়ার-কামিজ এবং ওড়না একসঙ্গেই পাওয়া যায়। তবে চাহিদার কথা বিবেচনা করে এবং ফতুয়া, টপস, শার্ট ইত্যাদির সঙ্গে আলাদাভাবে পরার জন্য অনেক ফ্যাশন হাউজ এখন আলাদাভাবে শুধু ওড়না ও স্কার্ফ বিক্রি করে থাকে। এসব ফ্যাশন হাউজের মধ্যে দেশাল, রঙ, সাদাকালো, বিবিয়ানা, আড়ং, নগরদোলাসহ আরও বেশ কয়েকটি বুটিক হাউজ। এসব হাউজে সুতির ওড়নার দাম ৩০০-৮০০ টাকা, সিল্কের এবং মসলিনের ওড়নার দাম ১০০০-২৫০০ টাকা, স্কার্ফের দাম ১৫০-২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত