তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার আসলে বাংলাদেশে চট করে ঢুকে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সম্ভাবনা থাকলে তিনি এভাবে পালাতেন না। গত ৩ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের ডাক ছিল। শেখ হাসিনার কাছে সুযোগ ছিল নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগ করার। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। বরং ৫ তারিখ (গত ৫ আগস্ট) তিনি গুলি চালিয়েছেন। এখন যেটা করছেন দেশের ভেতরে যারা রয়েছেন তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেবেন না। তাদেরকে দিয়ে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করাচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন একটা হুলস্থুল পরিস্থিতি আসলে শেখ হাসিনা করতে চান, যেটা আন্দোলনের ভেতরেও করতে চেয়েছেন, এখনও করতে চান। তাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা ঘটেনি। কিন্তু শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের দোসররা যারা দেশের ভেতরে রয়েছেন; শেখ হাসিনা কারো দায়িত্ব না নিয়ে, দলের দায়িত্ব না নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তিনি আর কখনোই আসবেন না। তাকে আনা হবে বিচারের জন্য কেবল। যারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন তাদেরকে বলছি, সমাজে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম না করে আত্মসমর্পণ করুন, তাহলে হয়তো আপনাদের শাস্তি কিছুটা কম হতে পারে।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থানের সরকার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখা সভাটির আয়োজন করে। সভা সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি মুশফিক উস সালেহীন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংবিধান গত ষোলো বছরে আমাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। নতুন বাংলাদেশে যেন সেইরকম ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে তা নিশ্চিত করত হবে। যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে তাহলে গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। আমাদের জীবন থাকতে তা হতে দেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে বসিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদের এসে সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেয়। এরপরের নির্বাচনগুলো তারা নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। আঠারো বছরের লড়াই সংগ্রামে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল সেই প্রত্যাশার চূড়ান্ত প্রকাশ হলো চব্বিশের ৩৬ দিনের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংবিধান গত ষোলো বছরে আমাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। নতুন বাংলাদেশে যেন সেইরকম ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে তা নিশ্চিত করত হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক নয়। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বসানো হয়েছে যাতে আরেকজন শেখ হাসিনা হয়ে উঠতে না পারে। বাংলাদেশের কিছু মৌলিক বিষয়ের সংস্কার দরকার। আর এজন্য দরকার রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। তবে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতি করার অধিকার রাখে না।
গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ফ্যাসিস্ট দল রাজনীতি করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে বলি একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এখন প্রশ্ন আসে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে কীভাবে রাজনীতি করতে পারে? যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে তাহলে গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। আমাদের জীবন থাকতে তা হতে দেওয়া হবে না।
আলোচনা সভায়, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বডির অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
কেন্দ্রীয় কারাগারের এক হাজতির মৃত্যু
প্রেমের সম্পর্কে অবনতি, তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার