মাদক মামলার গতি নতুন ল্যাবে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০১ এএম

সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সংস্থার অভিযানে ধরা পড়ছে মাদক। হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। কিন্তু এসব মামলা যতটা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার, সেটা সম্ভব হয় না। এর বড় কারণ উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়া। তবে, এ ক্ষেত্রে আশার খবর দিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে চালু হয়েছে বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক এই পরীক্ষাগার চালুর ফলে একদিকে যেমন দ্রুত মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে। তেমনি কমবে এই খাতের খরচও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর সেই মামলার অগ্রগতি করতে শুরুতেই প্রয়োজন হয় উদ্ধার হওয়া বস্তুটি মাদকদ্রব্য কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া। সেজন্য উদ্ধার হওয়া বস্তুর নমুনা পাঠাতে হয় পরীক্ষাগারে। এতদিন এই পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হতো ঢাকায়। এমন নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সিআইডির একটি ল্যাব থাকলেও সেটি মূলত ভিসেরা পরীক্ষার কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এ অবস্থায় রাজশাহীসহ আশপাশের জেলার মাদকদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতো ঢাকার ল্যাবে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি অপচয়ের ঘটনা ঘটত। নমুনা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যকে ঢাকায় যেতে হতো। এতে ওই সদস্যের অন্তত দুদিন সময় অপচয় হতো। এর পেছনে প্রতিবার নমুনা নেওয়া বাবদ ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করতে হতো। নমুনা দিয়ে আসার পর রিপোর্ট পেতে অপেক্ষা করতে হতো অন্তত দুই সপ্তাহ। সারা দেশের নমুনা ঢাকায় জমা হওয়ায় কখনো বাড়তি চাপ থাকায় এক মাসও সময় পার হয়ে যেত রিপোর্ট পেতে। এই সময়ে মূলত ওই মামলা নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার এগোনোর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় প্রতিদিনই মাদক উদ্ধার হতে থাকায় বাড়তে থাকে মামলার সংখ্যা। এ অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যেই ঢাকার বাইরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চারটি জেলায় রাসায়নিক ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের একটি বাস্তবায়ন হয়েছে রাজশাহীতে।

রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক আবু হাসান জানান, ২০২২ সালের ৩০ জুন এই ল্যাবের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। গত ১৯ মার্চ এই ল্যাবটির গেজেট প্রকাশ পায়। এরপর নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করে ১৭ অক্টোবর এটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সব পরীক্ষা করা হচ্ছে এখানেই। ল্যাবটিতে সাতজন কাজ করছেন। গত ছয় দিনে এখানে পরীক্ষা শেষে ১৪টি ফলাফল দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি একটি আধুনিক ল্যাব। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা এখানে আছে। ল্যাবটির প্রতিদিন প্রায় ৭০টি রিপোর্ট প্রস্তুত করা সম্ভব। এগুলোর ফল দিতে এক থেকে সর্বোচ্চ তিন দিন সময় লাগছে।

রাজশাহী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, একটি মাদক মামলার প্রধান সাক্ষ্য হলো মাদকের পরীক্ষার প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামনে আগানোর সুযোগ নেই। উদ্ধার হওয়া বস্তু কোনো ধরনের মাদক নাকি মাদক নয়, সেটি জানার পর তিনি সামনে এগোতে পারবেন। রাজশাহীর ল্যাবটি একদিকে যেমন সময় কমাচ্ছে, মামলার তদন্তে গতি আনছে। পাশাপাশি সরকারের ব্যয়ও সংকোচন হচ্ছে।

রাজশাহী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, এটি শুধু আমাদের জন্য নয়। সবার জন্য ব্যবহার করা যাবে। ফলে রাজশাহী অঞ্চলের মাদক মামলাগুলোতে গতি আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত